বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৪টি শয্যার বিপরীতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভর্তি ছিল ৩৫ জন শিশু। চলতি সপ্তাহে কোনো কোনো দিন এখানে ভর্তি রোগী অর্ধশত ছাড়িয়েছে। হঠাৎ শিশু রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিরাজুল করিম বলেন, ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ৪০টি শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে দৈনিক আরও ২০০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। সেই হিসাবে গত দুই সপ্তাহে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ নিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিশু সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুদের এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে এবার সেই হার অনেক বেশি।

শিশু রোগী বাড়ায় দেখা ‍দিয়েছে শয্যাসংকট। ফলে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে বসে কাঁদছিলেন হালিমা খাতুন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে পাঁচ মাসের শিশু ইয়াসিন শেখ। শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দাদি হালিমা তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ভর্তি করলেও শয্যা না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। হালিমা খাতুন বলেন, ‘বাচ্চার ঠান্ডা লাগছে। এরপর মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’

কচুয়া উপজেলার বাঁধার এলাকার সাড়ে সাত মাসের শিশু সিয়ামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হেলেনা বেগম বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে সর্দি আর কাশি শুরু হলে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিছি। কিন্তু তা খাওয়ায়ে কিছু কমছে না। এখানে আনলে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছে।’

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট শিহান মাহমুদ বলেন, ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন, মাঝে মাঝে বৃষ্টি, হঠাৎ গরমের কারণে বাচ্চারা দ্রুত ঘেমে যায়। ওই ঘাম থেকে সংক্রমণটা হয় সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্নের আহ্বান জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন