default-image

তানিয়া বেগম ও মাহাবুব আঁকন দম্পতি তাঁদের ৪২ দিনের মেয়ে মীমকে নিয়ে গত মঙ্গলবার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। মীম এক সপ্তাহ ধরে জ্বর-কাশিতে ভুগছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শয্যা খালি নেই। আরেকটি শিশুর সঙ্গে মীমকে একটি শয্যায় রাখা হয়েছে।

তানিয়া বেগম বলেন, তাঁদের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে। অসুস্থ মেয়েকে প্রথমে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পটুয়াখালী এসেছেন। এখানে শয্যা খালি নেই। মীমসহ দুজনকে এক শয্যায় রাখা হয়েছে।

ওই শয্যায় থাকা অন্য শিশুটির নাম সাইফা। বয়স দেড় মাস। শিশুটির মা তানজিলা বেগম জানান, তাঁর ছেলে সাইফারও ঠান্ডা লেগেছে। মাঝেমধ্যে শরীর গরম হয় এবং কাশিও আছে। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। তাঁদের বাড়ি সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ডিবুয়াপুর গ্রামে। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে আছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এক মাস ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অনেক শিশু ও তাদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ জন্য একটি শয্যায় দুটি করে শিশু রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৯ সালে শহরের কালিকাপুর এলাকায় ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে এটি ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে এই হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শয্যাসংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। চিকিৎসকসহ লোকবলসংকট রয়েছে। এ অবস্থায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে এটি পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৪৮টি। গত বুধবার সকালে শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শয্যা খালি নেই। অধিকাংশ শয্যায় দুটি করে শিশু রোগী রয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের মায়েরাও শয্যায় বসে রয়েছেন। একটি শয্যায় রয়েছেন আয়েশা বেগম (২৩) ও তাঁর পাঁচ মাসের ছেলে আবদুল্লাহ। তাঁদের বাড়ি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামে। আবদুল্লাহ এক সপ্তাহ ধরে জ্বর-কাশিতে ভুগছে। চার দিন ধরে সে হাসপাতালে আছে। ওই শয্যায় ফাতেমা নামের ৫ মাসের শিশুটি ৯ দিন ধরে হাসপাতালে আছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ সুব্রত রায় এ ওয়ার্ডে সেবা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। অভিভাবকেরা একটু সচেতন থাকলেই অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব। শিশুদের ঘামতে দেওয়া যাবে না। প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিশুদের রাখতে হবে।

শিশু ওয়ার্ডে কর্মরত স্টাফ নার্স আয়শা আক্তার জানান, শিশু ওয়ার্ডে ৪৮টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ৭৪ জন। এক মাস ধরে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেক শয্যায়ই দুটি করে শিশু রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ২৫০ শয্যার জনবল নিয়েই চলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ ৫৮ চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১১ জন। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন একজন। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাত শিশু বিশেষজ্ঞ এ হাসপাতালে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হচ্ছে। ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়নি। তাই শয্যার সংকট রয়েছে। তারপরও চেষ্টা চলছে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। শয্যা কম থাকা এক শয্যায় দুই শিশু রোগীকে রাখতে হয়। শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

আবদুল মতিন আরও বলেন, করোনাকালে রোগীর সঙ্গে লোকজনের উপস্থিতি যাতে কম থাকে, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ ও হাসপাতালে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন