default-image

সংস্কারের অভাবে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কমপ্লেক্স ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনটির সংস্কারকাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রায় এক মাস আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ভবনটির কাজ শুরু হয়নি।

ভবনটির অবস্থা নাজুক থাকায় কয়েক বছর ধরে ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারে ইউপির দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম চলছে। এতে ইউনিয়নবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৫০ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই ইউপি কমপ্লেক্স ভবনের সংস্কারকাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পায়েল ট্রেডিং করপোরেশন। কাজ শেষে ২০১৩ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতন এ ভবন উদ্বোধন করেন। তবে দুই বছর যেতে না যেতেই ভবনের অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ওই ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারে একটি ভাড়াটে ভবনের মধ্যে ইউপির দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম চলছে।

বিজ্ঞাপন

ভবনটির মেরামতকাজের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে এলজিইডির অধীন দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি পান রফিক মিয়া নামের একজন ঠিকাদার। ঠিকাদারের সঙ্গে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ ফেব্রুয়ারি। কাজ শেষ করার সময়সীমা ১০ মে পর্যন্ত। কার্যাদেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঠিকাদারের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও এখনো কাজ শুরু করা হয়নি। এ অবস্থায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারকে তাগিদপত্র দেন উপজেলা প্রকৌশলী।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেয়নি। নিরুপায় হয়ে এলাকার লোকজন মিলে এ নিয়ে মানববন্ধন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নজরে এসেছে। এখন কবে কাজ শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে, তা ওপরওয়ালাই জানেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘ঠিকাদার আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ভবনের কাজটি শুরু করবেন বলে আমাকে কথা দিয়েছেন। ভবনের মেরামতকাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়মিত সেখানে দাপ্তরিক কাজকর্ম ও ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম করা হবে।’

জানতে চাইলে ঠিকাদার রফিক মিয়া বলেন, ‘ঝামেলায় থাকায় ওই ইউপি ভবনের কাজটি শুরু করতে পারিনি। তিন–চার দিনের মধ্যে সাইটে মালামাল পাঠিয়ে দেব। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ কাজ শুরু করব।’

উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যথাসময়ে মেরামতকাজটি শুরু না করায় ঠিকাদারকে ১৭ ফেব্রুয়ারি তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার এই কমপ্লেক্স ভবনের কাজ দ্রুত শুরু করবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। অন্যথায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন