default-image

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ডাকাতি মামলার আসামি ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার দুপুরে উপজেলার নলুয়া এলাকায়। এ ঘটনায় ইজিবাইকের মালিক শাহজালাল বাদী হয়ে বিকেলে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

ওই আসামির নাম জসিম উদ্দিন (২৮)। তিনি বর্তমানে আশুলিয়া থানাধীন পূর্ব শিকাপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। জসিম পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালভাঙ্গা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। আসামির নামে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির মামলা রয়েছে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, সখীপুরের কচুয়া এলাকা থেকে একজন রোগী নিয়ে ইজিবাইকচালক শাহজালাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। সেখান থেকে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মালামাল নিয়ে কচুয়া যাবেন বলে ওই ইজিবাইকটি ভাড়া নেন। কার্টনভর্তি মালামাল আনার জন্য ওই নারীকে ইজিবাইকে রেখে চালককে নিয়ে দুই ব্যক্তি হাসপাতালের দোতলায় যান। একপর্যায়ে ১৫ মিনিট পরে ওই দুই ব্যক্তি কত কার্টন মালামাল আনতে হবে, তা জানতে চালককে ইজিবাইকে বসে থাকা ওই নারীর কাছে পাঠান। চালক শাহজালাল হাসপাতালের সামনে এসে দেখেন তাঁর ইজিবাইকটি নেই। পরে শাহজালাল ইজিবাইক না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনে ইজিবাইক সমিতির নেতাদের কাছে ফোন দিয়ে গাড়ি চুরি হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পরে উপজেলার নলুয়া বাজারের ইজিবাইক সমিতির লোকজন জসিম উদ্দিনকে ওই ইজিবাইকসহ আটক করে পিটুনি দেন।

বিজ্ঞাপন

এক পর্যায়ে নলুয়া এলাকার লোকজন পুলিশের কাছে জসিমকে সোর্পদ করেন। ওই নারীসহ চোর দলের বাকি সদস্যরা সটকে পড়েন।

ইজিবাইকচালক শাহজালাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাসখানেক আগে তিনি ঋণ করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ওই নতুন ইজিবাইকটি কেনেন। আমি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছিলাম। আমার কপাল ভালো যে আমি ইজিবাইকটি ফিরে পেয়েছি।’

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন মিয়া আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামি জসিম উদ্দিন চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইকারী দলের একজন সক্রিয় সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা রয়েছে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার সকালে আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঠানো হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন