default-image

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম রাজা ছৈয়ালের আরও ১৪ সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদের ছেলে কাউসার আহমেদ।

এর আগে কাউসার আহমেদ গত মঙ্গলবার ১৭ সমর্থকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন। হামলা করার অভিযোগে করা ওই মামলায় আসামিরা বুধবার আদালত থেকে জামিন নেন। এরপর আবার গতকাল আরেকটি মামলা করা হয়। দুটি মামলাতেই রেজাউল করিম রাজা ছৈয়ালের স্বজন ও সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে। আর বিদ্রোহী প্রার্থীর পাঁচ সমর্থককে পিটিয়ে আহত করার মামলাটি পাঁচ দিনেও নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডামুড্যা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমারত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ছেলের দায়ের করা দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আর বিদ্রোহী প্রার্থীর করা অভিযোগটির তদন্ত করা হচ্ছে। পাঁচ দিনেও তদন্ত শেষ করে কেন মামলাটি নেওয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সবই বোঝেন, আমার আর কী বলার আছে!’

বিজ্ঞাপন

রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমেদের সমর্থকেরা তাঁদের কোনো প্রচার-প্রচারণা করতে দেন না। প্রচারণায় গেলে নারী কর্মীদের অসম্মান করা হয়। মামলা দিয়ে নির্বাচনী কাজে জড়িত তাঁর স্বজন ও সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভোটের মাঠ থেকে তাঁদের তাড়াতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। স্থানীয় সাংসদ নাহিম রাজ্জাক পৌর এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি ডামুড্যা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমদ, আর মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, বিএনপির প্রার্থী মো. নাজমুল হক সবুজ মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসেন।

গত সোমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কুলকুড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় যান। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর প্রচারণার ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনায় ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করার জন্য লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পাঁচ দিনেও পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করেনি।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাসভবনের পাশে ককটেল বোমা হামলার অভিযোগ এনে মো. কামাল উদ্দিন আহমেদের ছেলে কাউসার আহমেদ গতকাল একটি মামলা করেন। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ১৪ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থক ও স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমার কর্মীদের মারধর করার মামলাটি পুলিশ নিচ্ছে না। অথচ মিথ্যা মামলা ঠিকই নিচ্ছে। পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তার ওপর সাংসদের চাপ ও হুমকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমার স্বজন ও কর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’

বিএনপির প্রার্থী মো. নাজমুল হক সবুজ বলেন, ‘সাংসদ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকা প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমরা অভিযোগ দিচ্ছি। কিন্তু প্রশাসন আমলে নিচ্ছে না। এভাবে কি নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখা যায়? এমন প্রহসনের মানে কী?’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রাজার সমর্থকেরা আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আমার বাড়ির সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ সব কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমার কর্মী-সমর্থকেরা কোনো প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে না। কারও ওপর কোনো হামলাও করা হয়নি। আর সাংসদের বাড়ি এখানে। তিনি ভোট দেওয়ার জন্য ও নির্বাচনী এলাকায় অন্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছেন। তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না।’

ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বিষয়টি পুলিশ দেখছে। আর সাংসদ এলাকায় অবস্থান করলেও প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর কোনো প্রমাণ নেই।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন