default-image

খুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আবু তৈয়ব নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি টিভি চ্যানেল এনটিভির খুলনা ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খুলনা নগরের নূরনগর এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

আজ বুধবার দুপুরের দিকে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বিকেল চারটার দিকে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক সাংবাদিক আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে খুলনা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর (মেয়র) বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগ করেছেন।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা অপারেশন অফিসার এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, খুলনা সিটির মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের কারণে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক আবু তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে সোপর্দ করার সময় রিমান্ড চাওয়া হয়নি, তবে তদন্ত করে তথ্য না পেলে পরবর্তীকালে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, কয়েক দিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবু তৈয়ব তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা খবর ও কুৎসা প্রচার করেছেন। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে তিনি তৈয়বের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা জেলা প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন মোল্লা। ওই মামলায় মানবজমিনের খুলনা প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। ভোটের ফলাফলে ‘গরমিল’ হয়েছে, এমন খবর প্রচার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন তৎকালীন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী।

এ ছাড়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কারাগারে নিহত লেখক মুশতাক আহমেদকে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করায় রুহুল আমিন নামের বাম ঘরোনার এক রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন