বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইকবাল সোবহান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ বন্ধ করতে হবে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা যাবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়টা মামলা হয়েছে, জানতে চাই। একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের নিগ্রহ, দমন ও নির্যাতন করা এবং অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে গঠিত শেখ হাসিনা সরকারের সাংবাদিকবান্ধব ও গণমাধ্যমবান্ধব নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংবাদিকের কলম কেড়ে নেওয়ার জন্য, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য এই আইন তৈরি হয়নি। অথচ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করার জন্য এই আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, কর্মক্ষেত্রে চাকরি ও বেতনের অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি নিয়ে কোনো সাহসী সাংবাদিকতা হতে পারে না। পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি কর্মক্ষেত্রে চাকরি ও বেতন-ভাতা না হলে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা সম্ভব হবে না।

default-image

ইকবাল সোবহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ আইনের অপপ্রয়োগ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারকে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করার প্রয়াসে লিপ্ত। প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামের বেলায়ও এমনটা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি সাংবাদিকবিরোধী অগণতান্ত্রিক চক্র সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করাতেই বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচিত ১১ জন সাংবাদিক নেতার ব্যাংকের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এটি নজিরবিহীন। যেকোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব তলব করার অধিকার আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা চাইতেই পারে। আমরা দাবি জানাতে চাই, কী তথ্য পেলেন, সেই তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি করলে বিচার হবে। কিন্তু কোনো তথ্য না পেলে “ক্লিন সার্টিফিকেট” দিতে হবে। সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’

স্মরণসভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেইজ্জতি করা আইন হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। করোনা মহামারির এই সময়েও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৫০০ মামলা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন হয়, আমরা সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আপত্তি তুললাম। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বললেন, এটা নাকি তাঁর স্বপ্নের আইন। পৃথিবীর অনেক দেশই নাকি এ আইন অনুসরণ করবে। আইনমন্ত্রী বললেন, এ আইনের অপপ্রয়োগ করা হলে সাংবাদিকদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে তিনি দাঁড়াবেন। করোনা মহামারির এই সময়েও অন্তত ৫০০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেও আইনমন্ত্রীকে কোথাও দেখা পাওয়া যায়নি।’

default-image

মনজুরুল আহসান বুলবুল আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে একটি হত্যাকাণ্ড ছাড়া কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ৮২ দফা পিছিয়েছে। দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে ৯ বার। খুলনার হারুন অর রশিদ, খুলনার হুমায়ুন কবির, শামসুর রহমান, মানিক শাহ, বেলাল হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। দৈনিক সমকালের ফরিদপুরের সাংবাদিক হত্যার বিচার নিম্ন আদালতে হলেও আসামিরা অনেক আগেই মারা গেছে।

সভার শুরুতেই কালো ব্যাচ ধারণ ও প্রয়াত সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর আত্মার শান্তি কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিইউজের সভাপতি আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জে এম রউফের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান, আক্তারুজ্জামান, মোহন আখন্দ, চপল সাহা, মাসুদুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, বিধান চন্দ্র, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান, দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী প্রমুখ।

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততা দেখিয়ে পুলিশ নাটক সাজিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তদন্তের নামে এই হত্যা মামলা নিয়ে প্রহসন হয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলাটি পিবিআইকে দিয়ে পুনঃ তদন্ত করতে হবে।

শেষে তিনজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়। এ পদক পেয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক দুই সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও রবিউল করিম এবং দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য।

বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর রাতে কর্মস্থল থেকে বগুড়ার শেরপুরের বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন। ওই ঘটনায় বড় ছেলে পার্থ সারথী চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি থানা-পুলিশ, সিআইডি হয়ে ডিবি পুলিশ তদন্ত করে। পরে ২০১৭ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন