বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১২০ শিক্ষার্থীকে এভাবেই তাঁর বাংলোতে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন সান্নিধ্য পেয়ে মহাখুশি খুদে শিক্ষার্থীরা।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আজ সকাল নয়টায় বাসে করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে নগরের ছোটরা এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোতে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বাংলোর ভেতরের বাগানঘেরা পরিবেশ ও শানবাঁধানো পুকুরের পাড়ে আড্ডায় মেতে ওঠে। এরপর তাদের বাংলোর ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সবজিখেতে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক তাদের গাছের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল, প্রজাতি ও গোত্র সম্পর্কে ধারণা দেন।

পরে বাংলোর মধ্যে আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় পিঠা উত্সবের। এতে চিতই, ঝিনুক, পাকন পিঠা, ভাপা পিঠা , ছিটা পিঠা ও ডিম পিঠার পসরা সাজানো হয়। সঙ্গে রাখা হয় জুস, লেটুসপাতা, চকলেট ও মিষ্টি। জেলা প্রশাসক নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পিঠা পরিবেশন করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শিক্ষার মূল লক্ষ্য জিপিএ-৫ পাওয়া নয়। আমার এক বোন এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। পরেরবার সে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। এখন সে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চাকরি করছে। জীবন থেকে এক বছর চলে গেলে হতাশ হবা না। জীবন অনেক আনন্দময়। একে উপভোগ করতে হবে। মুখস্থ বিদ্যা পরিহার করতে হবে। মৌলিক বিষয়ে ধারণা থাকলে জীবনে ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, ডিসি , সচিব হওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। তোমার অর্জিত জ্ঞানই তোমাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবে। নিয়মিত পড়াশোনা আর চারপাশ সম্পর্কে ধারণা থাকলে কোথাও ঠেকবা না।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং, রোবোটিকস নিয়ে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা করো। এগুলো জীবনে অপার আনন্দ এনে দেয়। বাংলোতে এনে তোমাদের সঙ্গে আমরা মিশে গেলাম। আমরা এক ও অভিন্ন। তোমাদের উত্সাহ দিতে আমার এ ক্ষুদ্র আয়োজন।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সব সময় বড়দের নিয়ে ব্যস্ত থাকি আমরা। কিন্তু এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে আছে আগামী দিনের দেশ গড়ার অপার সম্ভাবনা। ওরাই আমাদের প্রাণশক্তি।’

এ সময় ডিসির বাংলোতে বেড়াতে এসে জান্নাতুল ফেরদৌস, কাশপিয়া তুবা, সামিয়া আলম, আয়েশা হাসান জানায়, ‘কখনো কল্পনা করতে পারিনি, একজন জেলা প্রশাসক এভাবে তাঁর বাংলোতে বেড়ানোর সুযোগ দেবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লেগেছে।’

এ সময় ডিসির বাংলোতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমান, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সায়েদুল আরেফিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাখাওয়াত হোসেন রুবেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমা আশরাফী।

শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সাজিয়া আফরিন, প্রদীপ কুমার সূত্রধর, সুলতান জসিম উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ ও কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্গিস আক্তার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন