বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা দ্রুত প্রতিরোধ করতে না পারলে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংখ্যার দিক থেকে এটা উদ্বেগজনক না হলেও শনাক্ত ১৮০ জনের মধ্যে ২৬ জনের ঢাকা বা অন্য কোথায়ও ভ্রমণের ইতিহাস নেই। বিষয়টি উদ্বেগের। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, স্থানীয়ভাবে তারা আক্রান্ত হয়েছে এবং এটা দ্রুত প্রতিরোধ করতে না পারলে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে। ওই ২৬ জনের ১৩ জন ভোলার এবং বাকি ১৩ জন পটুয়াখালী জেলার।

বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কীটতত্ত্ববিদসহ একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী এসেছে। সেখানে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। লার্ভা সংগ্রহ করে এডিস মশার উপস্থিতি আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এসব নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আগামীকাল রোববার একজন কীটতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল একই কাজে ভোলায় যাবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল সকাল পর্যন্ত বিভাগে ১৮০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৪৩ জন। অন্যরা বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪৩ জনের মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ১১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি ২৭ জন চিকিৎসাধীন আছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৬১ জন। এ ছাড়া বরিশাল জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৬ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ২৯ জন। পটুয়াখালী জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৩২ জন, বরিশালে ১৬ জন, ভোলায় ১৮ জন, পিরোজপুরে ৯ জন, বরগুনায় ১১ জন এবং ঝালকাঠিতে ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবদুর রাজ্জাক জিহাদী (৫৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তিনি ঢাকা থেকে সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষা করান। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছিল। গত বছর কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এবার জুলাইতে কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয় প্রথম। বৃহস্পতিবার আইইডিসিআর থেকে টিম এসেছে। তারা পটুয়াখালীতে কাজ শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে আমাদের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের একটি দল রোববার ভোলায় যাবে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এর ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আরও বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে, বিশেষ করে লার্ভা ধ্বংসে কাজ করব। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে জমা পানি রাখা যাবে না। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও আরও সচেতন হতে হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন