default-image

সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মিতব্য একটি অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে প্রবীণ সাহিত্যিক আবদুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, হাইকোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরীর জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ। শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী অনিক আর হক, সৈয়দ ফজলে ইলাহী ও আনিছ আহমদ অংশ নেন।

গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আম্বরখানার হুরায়রা ম্যানশনের সামনে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন খোলা ড্রেনে পড়ে আবদুল বাসিত মোহাম্মদের পেটের মধ্যে রড ঢুকে যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। সিলেটের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আবদুল বাসিত মোহাম্মদ (৬৫) কবি ও ছড়াকার হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

রিট আবেদনে সাহিত্যিক আবদুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় সিটি করপোরেশনের নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা হবে না, তাঁর মৃত্যুর জন্য সিটি করপোরেশন দায়ী থাকার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ, সিটি করপোরেশনের চলমান নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা এবং নিহতের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদেশ প্রার্থনা করা হয়েছিল। আবেদনের শুনানি শেষে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ও অনিরাপদ উন্নয়নের কারণে নগরের সব বাসিন্দা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এমন দায়িত্বহীন কাজেরই বলি হয়েছেন প্রবীণ সাহিত্যিক ও শিক্ষক আবদুল বাসিত মোহাম্মদ। তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও উন্নয়নকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে আমি সিটি করপোরেশনের একজন নাগরিক হিসেবে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

আবদুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করে নগরীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। এসব প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল হক, সহকারী প্রকৌশলী রজি উদ্দিন, উপসহকারী প্রকৌশলী দেবপ্রদ দাস, একজন কার্যসহকারী ও ঠিকাদার অরবিন্দ পালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনা ব্যবস্থা নেয়নি সিটি করপোরেশন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন