বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীরা ভোর থেকেই কর্মস্থলে যোগ দিতে গন্তব্যে ছুটছেন। ভোরের দিকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। সাধারণত যাঁরা অফিস করবেন, তাঁদের একটা অংশ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে এসে উপস্থিত হন। এরপর থেমে থেমে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে ফেরিঘাটে কিছুটা ভোগান্তি রয়েছে। ভোর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ঘাটে সিরিয়ালে কমপক্ষে তিন শতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে। ঘাটে এসে যাত্রীদের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নৌপথটির তিনটি ঘাট দিয়ে বর্তমানে ১০টি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে ৮টি ফেরি চলছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে।

খুলনা থেকে আসা ঢাকামুখী যাত্রী মো. এমরান হোসেন বলেন, বেলা একটার দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঘাটে এসে দেখেন লম্বা লাইন। প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ফেরি পেয়েছেন। ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ ছিল, ফেরার পথেও দুর্ভোগে পড়তে হলো।

মোটরসাইকেল নিয়ে আসা যাত্রী শামীম আহমেদ বলেন, ‘ঘাটে এসে ফেরি পেয়েছি। তবে মোটরসাইকেলের চাপ অনেক বেশি। এই চাপ ঠেলে একপ্রকার যুদ্ধ করেই ফেরিতে উঠতে হয়েছে।’

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাট ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলছে। ফলে ঘাটে খুব বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে না যাত্রীদের। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং মাঝিরকান্দি-শিমুলিয়া উভয় ঘাট দিয়েই যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরিতে সাধারণ যাত্রীদের চাপ কমই। তবে মোটরসাইকেল আরোহীদের চাপ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল থেকেই যাত্রীরা ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। নৌযানে ধারণক্ষমতা মেনে যাত্রী পার করা হচ্ছে। ঝড়ের মৌসুমে সতর্কতার সঙ্গে নৌযান চলাচল করছে। নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ ও দেড় শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। আবহাওয়া বৈরী হয়ে উঠলেই নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, কর্মস্থলগামী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। আগামী বেশ কয়েক দিন এই চাপ থাকবে। তবে নৌযানে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রাত ১০টা পর্যন্ত লঞ্চ চলে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন