default-image

ঢাকা-গৌরীপুর-হোমনা সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আঙ্গাউড়া এলাকায় হোমনাগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক ও গাছবাহী একটি ট্রাক্টর সড়কের গর্তে আটকে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসযাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা।

সড়কের গৌরীপুর এলাকায় যানজটে আটকে ছিলেন ঢাকা থেকে হোমনাগামী সুপার সার্ভিস বাসের যাত্রী হোমনার বাকসিতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. হানিফ মিয়া। তিনি সকাল ১০টায় ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাতটায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে সাড়ে আটটায় হোমনা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছার কথা। কিন্তু গৌরীপুরে এসে শোনেন সড়কের গর্তে ট্রাক ও ট্রাক্টর আটকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে মালামাল কাঁধে-পিঠে নিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পুনরায় গাড়িতে উঠে গন্তব্যে যাওয়ার বিকল্প উপায় নেই।

বাসচালক সবুজ মিয়া বলেন, কয়েক দিন যাবৎ এ সমস্যা চলছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে যাত্রী ও বাসের স্টাফরা খাবার, শৌচাগারসহ একাধিক সমস্যায় ভুগছেন।

হোমনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের চালক আলাউদ্দিন গৌরীপুর বাজারে যানজটে আটকে থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় বলেন, সকাল সাড়ে সাতটায় তিনি যানজটে আটকা পড়েন। গর্তেভরা সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হতেই অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নিয়মিত এমন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও সড়কের পেন্নাই এলাকায় চট্টগ্রামগামী বালুবাহী একটি ট্রাক আটকে একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগের দিনও একই অবস্থা ছিল।

চট্টগ্রাম থেকে হোমনাগামী রডবোঝাই একটি ট্রাকের চালক আল-আমিন, কাভার্ডভ্যানের চালক হায়দার আলী, লবণবাহী ট্রাকের চালক তারেকুল ইসলাম বলেন, ভোর ছয়টায় গৌরীপুরে এসে যানজটে আটকা পড়েন তাঁরা। কিন্তু ভাঙা সড়ক অতিক্রম করার মতো নির্দেশনা পাচ্ছেন না।

এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক দাউদকান্দির পেন্নাই গ্রামের ইমান উদ্দিন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক দাউদকান্দির আঙাউড়া গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, সংসার চালাতে প্রতিদিন সকালে রোজগারের আশায় গাড়ি নিয়ে বের হন। কয়েক দিন যাবৎ সড়কে গাড়ি আটকে দিনভর যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকের জমার টাকাও ওঠাতে পারছেন না। গ্যাস, লাইন খরচ আর নিজের খরচতো আছেই।

দাউদকান্দির আঙ্গাউড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মুকুল মিয়া বলেন, সড়ক মেরামত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন ঢুকতে দেওয়াই উচিত না।

default-image

দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল ফকির বলেন, এভাবে নিয়মিত অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন আটকে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর স্বাভাবিক পণ্য নিয়ে যাওয়া-আসায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে।

ট্রাকচালক সবুজ মিয়া ও ট্রাক্টরচালক আবু ছাত্তার বলেন, গর্তে ভরা সড়কে কখন যে গাড়ি আটকে যায় তা বলা মুশকিল। আটকে যাওয়া গাড়ির মালিক ও চালকের ভোগান্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না।

এ ব্যাপারে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাঙা সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় নিয়মিত গাড়ি আটকে যাচ্ছে। আর সরু সড়কে যানবাহন আটকে গেলে গাড়ি চলাচল সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটের। এই যানজট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বিস্তার লাভ করায় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন