বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। স্বাভাবিক দিনে যেখানে ২ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন, সেখানে ৫০০ রোগীও আসেন না বলে হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম জানান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বহির্বিভাগে অন্যান্য দিনের তুলনায় রোগীর উপস্থিতি অনেক কম। যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বেশি ভাড়া দিয়ে কষ্ট করে কেউ আসতে চাইছেন না হাসপাতালে। এর পরও রংপুরের আশপাশের উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে কিছু রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন।

হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের সামনে চিকিৎসা নিতে আসা পীরগাছার জমিরন নেছা বলেন, ‘বাসোত (বাস) আসতে খরচ পড়ত ৩০ টাকা। কিন্তু সেটে (যেখানে) একজনের অটোভাড়া লাগিল ৭০ টাকা। তাও কত চাপাচাপি করিয়া আসা লাগিল।’

শহরের মডার্ন মোড়ে গিয়ে দেখা গেল, কেউ ঢাকা যাবেন, কেউবা পাবনা, আবার কেউ বগুড়া। প্রতিটি অটোরিকশায় ছয়জনের একটি দল নিয়ে অটোরিকশাগুলো ছুটে যাচ্ছে মহাসড়কে। এখন রাস্তার রাজা এবং একমাত্র ভরসাই হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। অটোচালকেরা হাঁক দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলার নাম ধরে।

অটোরিকশার চালক জোনায়েত হোসেন বলেন, ‘রংপুর থেকে বগুড়া যেতে কমপক্ষে ছয়বার অটো পরিবর্তন করতে হবে। তবে টাকা আগের থেকে একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। কেননা, অটোর চার্জ শেষ হয়ে যায়।’

এদিকে জরুরি প্রয়োজনে লোকজনকে ছুটে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে অটোরিকশায় করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা শহরে চলাচল করছেন অনেক যাত্রী। একইভাবে শহরের সাতমাথা এলাকায় লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলাসহ কিছু এলাকা এবং শহরের মডার্ন মোড় থেকে গাইবান্ধা, বগুড়া, ঢাকাসহ আরও অনেক এলাকায় অটোরিকশায় চেপেই যাচ্ছেন ভেঙে ভেঙে।

রংপুর শহরের সাতমাথা মোড়ে যাত্রীদের ডাকছেন অটোরিকশার চালকেরা। কুড়িগ্রাম যেতে হলে তিনবার অটোরিকশা পরিবর্তন করতে হচ্ছে বলে জানা যায়। একই স্থান থেকে লালমনিরহাটে কোনো অটোরিকশা সরাসরি যাচ্ছে, আবার কোনো অটোরিকশা যাচ্ছে ভেঙে ভেঙে। যাতায়াতের ব্যয় আগের বাসভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ, তিন গুণ হচ্ছে।

এদিকে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কামারপাড়া ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে আজ সকালে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন জটলা করছেন। তাঁরা কীভাবে ঢাকা কিংবা দূরের জেলায় যাবেন, এর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে দীর্ঘ পথ অটোরিকশায় চেপে তাঁদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়। এমনি করে সকাল থেকেই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে লোকজনকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন