বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীনেশ কুমারকে ফোন করে। নিজেকে আলমডাঙ্গার ইউএনও পুলক কুমার মণ্ডল হিসেবে পরিচয় দেয়। ওয়ার্ডের মোট বেকারির সংখ্যা ও কয়েকজন বেকারিমালিকের মুঠোফোন নম্বর চায়। সরল বিশ্বাসে তাকে একজন বেকারিমালিকের মুঠোফোন নম্বর দেন কাউন্সিলর দীনেশ। তখন কাউন্সিলরকে জানানো হয়, ওই ওয়ার্ডের বেকারিগুলোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

ওই ব্যক্তি পরে আলমডাঙ্গা শহরের মডার্ন বেকারির মালিক মিলন হোসেনকে ফোন করে ইউএনও পরিচয় দেয়। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘ঢাকা থেকে মেসেজ (বার্তা) এসেছে, আলমডাঙ্গার সব বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’ এরপর ওই প্রতারক বলে, প্রতিটি বেকারিকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি (মিলন) চাইলে কিছু টাকা কম দিয়ে নাম কাটিয়ে নিতে পারেন। সেটা করতে হলে বিকাশ নম্বরে ৮ হাজার ২০০ টাকা দিতে হবে। জবাবে মিলন সরাসরি অফিসে গিয়ে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, এসব বিষয় অফিসে আলোচনা করা যাবে না।

উভয় বেকারিমালিক বিষয়টির খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তাঁরা জানতে পারেন, যে নম্বর থেকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, সেটি আলমডাঙ্গার ইউএনওর নয়। এরপর বিষয়টি তাঁরা মৌখিকভাবে প্রশাসনের লোকজনকে অবগত করেন।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই প্রতারক আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইলিয়াছ হোসেনকে ফোন করে এলাকার বেকারির বিষয়ে খোঁজ নেয়। পরে একই কায়দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ভয় দেখিয়ে মনি ফুডের মালিক মনিরুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু উভয় বেকারিমালিক বিষয়টির খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তাঁরা জানতে পারেন, যে নম্বর থেকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, সেটি আলমডাঙ্গার ইউএনওর নয়। এরপর বিষয়টি তাঁরা মৌখিকভাবে প্রশাসনের লোকজনকে অবগত করেন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতেই উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি মৌখিকভাবে তাঁদের অবগত করেছে। যে মুঠোফোন নম্বর থেকে বেকারিমালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে, সেটির সূত্র ধরে তাঁরা অনুসন্ধান শুরু করেছেন। ফোন নম্বর ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্তের অ্যাপ ‘ট্রু কলার’ ব্যবহার করলে নম্বরটিতে নাম দেখাচ্ছে ‘ভুয়া ইউএনও’। বর্তমানে বিষয়টি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতান আহমেদ অনুসন্ধান করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন