বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিআরটিএর নির্দেশনা আসার আগেই বেশি ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে। এভাবে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি সম্পূর্ণ আইন ও নিয়মবিরুদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব নিয়েই মূলত বাসমালিকদের কারসাজি। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার আগে ২০১১ সালে বিআরটিএ, বাসমালিক ও যাত্রী ফোরামের সমন্বয়ে গঠিত দল দূরত্ব নিরূপণ করেছিল সাড়ে ১৭ কিলোমিটার, ফ্লাইওভার হওয়ার পরে সে দূরত্ব দুই কিলোমিটার কমে হয়েছে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার। অথচ এখন এ দূরত্ব বেশি দেখিয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বাসমালিকেরা। মালিকদের এই কারসাজিকে বিআরটিএ এখন সমর্থন করছে।

২০১১ সালের ১৮ জুন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া ২২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩১ টাকা করে পরিবহন মালিক সমিতি। বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নামে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ। বর্ধিত বাসভাড়ার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সভায় তৎকালীন সাংসদ সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা (বর্তমানে সাংসদ) শামীম ওসমানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ঘটনাটি সারা দেশে আলোচিত হয়। এই ঘটনায় ২০ জুন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে হরতাল আহ্বান করে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। সে সময় আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক সামছুর রহমানের নেতৃত্বে বিআরটিএ, বাসমালিক, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম সমন্বিতভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথের দূরত্ব নিরূপণ করে সাড়ে ১৭ কিলোমিটার। একই বছর ১৯ জুন রাতে দুই দফায় এই রুটে বাসভাড়া কমিয়ে ২৭ টাকা করা হয়।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির রুট পারমিট পাওয়া বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার আগে ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা। সেটি বাড়িয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ রুট পারমিট পাওয়া বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার আগে ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা, তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা। যাত্রীপ্রতি ফ্লাইওভার টোল যোগ হবে সাড়ে ৬ টাকা। বিআরটিএ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রাজধানীর মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব ১৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার।

সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, চাষাঢ়া এলাকায় উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাস কাউন্টারে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া ১৪ টাকা বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এই রুটের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া ১০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নেওয়ার কথা। বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে ৭০ টাকা। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।

এই রুটের বাসযাত্রী রেহানা পারভীন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

উৎসব পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজল মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, বাসভাড়া হয় ৪৩ টাকা। ফ্লাইওভার টোল ৭ টাকা নিয়ে ভাড়া হয়েছে ৫০ টাকা।

বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা বেশি ভাড়া আদায় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভা করে বর্ধিত ভাড়া অনুমোদন দেওয়া হবে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, এই রুটের দূরত্ব ১৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার।

এদিকে রোববার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটের সঠিক দূরত্ব নিরূপণ করে বিআরটিএর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এই রুটের ভাড়া ৫০ টাকা নয়, কম হবে। আর ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন