মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দাদি–নাতির মৃত্যুর খবরে স্বজনের আহাজারি
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দাদি–নাতির মৃত্যুর খবরে স্বজনের আহাজারিপ্রথম আলো

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকারের চাপায় দাদি ও নাতির মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া স্কুলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন মিনু মল্লিক (৭০) ও অচিন মল্লিক (৮)। দুজনের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালশুর গ্রামে। তাঁরা সম্পর্কে দাদি ও নাতি।

বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি বাস্তবায়নে পুলিশের সহযোগিতার আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
মো. হেলাল উদ্দিন, ওসি, শ্রীনগর থানা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মিনু মল্লিক তাঁর নাতি অচিন মল্লিককে নিয়ে শ্রীনগরের নাগের পাড়ায় মেয়ের জামাতা কাজল মণ্ডলের বাড়িতে বেড়াতে যান। আজ সকালে তাঁরা নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। মিনু তাঁর নাতিকে নিয়ে হাঁসাড়া স্কুলগেটের পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে যাওয়ার জন্য মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে মাওয়াগামী একটি প্রাইভেটকার তাঁদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই অচিন মল্লিক মারা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় মিনুকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পরপরই মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাঁসাড়া স্কুলগেটে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পদ্মা সেতু চালু হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। তাই সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি পদচারী–সেতুর দাবি জানানো হচ্ছে। অথচ দুর্ঘটনা রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা দ্রুত তাঁদের দাবি মেনে নিতে বলেন।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি বাস্তবায়নে পুলিশের সহযোগিতার আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মসিউর রহমান বলেন, ‘এক মাস আগে একই স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন রাস্তা অবরোধ করলে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে আমরা ফুটওভার ব্রিজের আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু এক মাসেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। একই স্থানে আবার দুর্ঘটনা ঘটায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। এক্সপ্রেসওয়ের বেশ কয়েটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’

মন্তব্য পড়ুন 0