default-image

সিলেটের বন্দরবাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে হত্যা ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যায়ে ফাঁড়ির ‘টুইআইসি’ (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত উপপরিদর্শক হাসান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আলোচিত এ ঘটনায় বরখাস্ত ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মূল অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র তৈরি করার সময়ই হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত তদারক করা পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তের শেষ পর্যায়ে প্রধান আসামি আকবরকে পালাতে সহায়তা করা ও আলামত গোপন করার চেষ্টার অভিযোগে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি পুলিশ লাইনস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করার আলামত গায়েবে সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে হাসান রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার আরও বলেন, হাসানকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি তদন্তের সর্বশেষ পর্যায়ে এসেছে। এখন অভিযোগপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে। শিগগিরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

সিলেট নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হানকে গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান আকবর।

৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ এবং প্রত্যাহার হওয়া এএসআই আশেক এলাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসানকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হলেন পাঁচজন। এঁরা সবাই পুলিশের বরখাস্ত হওয়া সদস্য। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ঘটনার সময় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আবদুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, আকবরকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ‘টুইআইসি’ উপপরিদর্শক হাসান উদ্দিনকে ২২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল হাসানকে। তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁড়ির ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিনষ্ট করার অভিযোগ ছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন