হোসেন আলীর ভাই ইছাহক আলী বলেন, ঈদে মাংস কেনার জন্য টাকা সঞ্চয় নিয়ে সম্প্রতি গ্রামের মোস্তফা হোসেনের সঙ্গে হোসেন আলীর বিরোধ এবং নিজেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মোস্তফা হোসেনের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এসে মারপিট ও বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় দফায় দফায় বাধা দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবীর বলেন, হোসেন আলী, তাঁর ভাই মুছা করিম ও তাঁদের মা জমিলা খাতুনের নামের একই গ্রামের মোস্তফা হোসেন ঈদে মাংস কেনার জন্য টাকা সঞ্চয় বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে পুলিশ দেখে হোসেন আলী পালানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁর টিনের চালে কপাল কেটে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে দর্শনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নিখিল চন্দ্র অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে হিজলগাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একদল পুলিশ অটোরিকশা নিয়ে হোসেন আলীর দোকানের সামনে পৌঁছালে আতঙ্কে হোসেন আলী পালানোর জন্য দৌড় দেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী দুলাল হোসেনের বাড়ির মধ্যে গিয়ে আটকা পড়েন। পুলিশ ঘিরে ধরে বাঁশ দিয়ে মারপিট করলে হোসেনের বাঁ চোখের ওপর কপালে বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রক্তাক্ত হোসেন আলী চেতনা হারিয়ে ফেলেন। দুলালের স্ত্রী সুমি খাতুন বিষয়টি হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে জানান। এ সময় বাড়ির লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এতে পুলিশ সদস্যরা হিজলগাড়ি ক্যাম্পে ফিরে যান। পরে দর্শনা থানার পরিদর্শক নিখিল চন্দ্র অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যদের মারপিট করেন। এ সময় হোসেন আলীর বৃদ্ধা মা জামেলা খাতুন ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাবি জাকিয়া খাতুনসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হোসেন আলীসহ তাঁর পরিবারের ছয়জন শারীরিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নামের পাশে ‘পুলিশ কেস’ হিসেবে সিল মারা আছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসনাত পারভেজ বলেন, হোসেন আলীর কপালে বড় ধরনের ক্ষতের কারণে বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বাকিদের অবস্থা তেমন জটিল না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন