default-image

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোনো রহস্য উদ্‌ঘাটন ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সোয়া ছয় বছর পর পুলিশের চারটি তদন্ত সংস্থার ১০ জন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। আজ সোমবার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামালের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, এ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব ছিল। চারটি সংস্থার ১০ জন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা বাদীর সঙ্গে কথাই বলেননি। সন্দেহভাজন হিসেবে যাঁদের নাম বলা হয়েছে, তাঁদের কাউকে তাঁরা কখনো আটক বা গ্রেপ্তার করেননি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রথম যে ১০ জন ছাত্র মুক্তিবাহিনী গঠন করেছিলেন, তাঁর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল একজন। ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর এলাকার বাসা থেকে গ্যাস চৌরাস্তা এলাকায় নিজের ওষুধের দোকানে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর ১ ডিসেম্বর বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে এক বনের ধারে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। গলা, দুই হাত ও পায়ের রগ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল।

ওই দিন রাতে নিহত মোস্তফা কামালের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউকে আসামি না করে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। মাসখানেক পর একই থানার এসআই সুমন কুমার রায়কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মাসখানেক পর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তিন বছর ডিবি পুলিশের চারজন কর্মকর্তা এ মামলার তদন্ত করে কোনো রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে ব্যর্থ হন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের দুজন উপপরিদর্শক (এসআই) দেড় বছর মামলাটি তদন্ত করে তাঁরাও কোনো রহস্য উন্মোচন ছাড়াই ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর মামলার বাদী আদালতে পুনরায় তদন্তের আবেদন করলে আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেন। এখানেও দুজন কর্মকর্তা রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করলে অবশেষে কোনো রহস্য উদ্‌ঘাটন ছাড়াই সিআইডির পরিদর্শক আতাউর রহমান চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন টাঙ্গাইল আদালতে জমা দেন।

পরিদর্শক আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আগে নয়জন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেছেন। তাঁরা কিছুই উদ্‌ঘাটন করতে পারেননি। হত্যার পাঁচ বছর পর মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হয়। তথ্য উপাত্তহীন ও সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে আবার কোনো ক্লু পাওয়া গেলে মামলাটি আবার তদন্ত চলতে পারে।’

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার তিনি জানতে পেরেছেন, মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবার খুনিরা অধরাই থেকে যাবে, এটা হতে পারে না। খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে আবার আদালতে আবেদন করা হবে।

সোয়া ছয় বছরে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পাঁচবার মানববন্ধন করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. ওসমান গণি। তিনি বলেন, পুলিশ পারে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। একটু আন্তরিকতার সঙ্গে পুলিশ তদন্ত করলে অবশ্যই এ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব। তিনি হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন