বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী নওসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ মামলাটি ভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিযোগপত্র দিতে বিলম্ব করছে। কারণ, এতে পুলিশকেও আসামি করা হয়েছে। আর সদর থানায় হওয়া মামলার বাদী ও হাসান আলীর স্ত্রী বিথী বেগম বলেন, মামলার অগ্রগতি না থাকায় তিনি হতাশ।

থানায় হওয়া মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান বলেছেন, তিনি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়েছেন। ভিসেরা প্রতিবেদন পাননি। এটি পেলে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবেন। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও একটা বিষয় আছে। তবে গাইবান্ধা সদর থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনেক আগেই ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানার (৪২) বাসা থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মাসুদ দাদন ব্যবসায়ী। তাঁর কাছে থেকে দুই বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নেন শহরের স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী। এই টাকা সুদাসলে ১৯ লাখে দাঁড়ায়। এর জেরে লালমনিরহাট থেকে হাসানকে তুলে এনে নিজ বাসায় এক মাসের বেশি আটকে রেখেছিলেন মাসুদ। ঘটনার দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ নিয়ে নিহত হাসান আলীর স্ত্রী বিথী বেগম সদর থানায় মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ী ‘হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ’ গড়ে ওঠে। মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে পৃথক মামলা করেন। গত ৭ নভেম্বর গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে এই মামলা করা হয়। এতে মাসুদ রানা, তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় পুলিশও জড়িত। তাই তাদের আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে।

প্রতিবাদ মঞ্চের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির বলেন, মামলাটি চাঞ্চল্যকর হলেও কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। কাজ চলছে শম্বুকগতিতে।

পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন