বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল রাতে খোকসা থানায় ডিউটি অফিসার ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব রায়হান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাতে তিনি ছাড়া থানায় শুধু একজন এসআই ও একজন এএসআই ছিলেন। ওসিসহ সব সদস্য মিরপুর ও ভেড়ামারায় নির্বাচনী ডিউটিতে চলে যান। রাতে ওসমানপুরের খবর পাওয়ার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ওই এলাকার বিট অফিসারকে অবহিত করেন।

default-image

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় খোকসা উপজেলার ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওসমানপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম ডাবলু ও সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াজেদের সমর্থকেরা দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত ১১টার দিকে বর্তমান ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের বাড়িঘরে হামলা চালান। এ সময় তাঁর পরিবারসহ আশপাশের পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে ছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব দেখে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে সন্ত্রাসীরা তাঁদের প্রায় ১৬টি বসতবাড়ি ও ৪টি দোকানে ব্যাপক ভাঙ্চুর চালায়। কয়েক লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। কিন্তু রাতে কোনো পুলিশ এলাকায় আসেনি। তাঁরা আতঙ্কে রাত কাটান।

গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, তিনি স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা করেন। ওই সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নিয়ে পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে দেখেন সব ভাঙচুর করা। নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।

শাকেরা বেগম নামের এক নারী বলেন, সন্ত্রাসীরা ঘরের সব আসবাব ভাঙচুর ও লন্ডভন্ড করে। মেয়ের বিয়ের জন্য তিন ভরি গয়না ও সঞ্চয় করে রাখা নগদ তিন লাখ টাকা সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়।

খোকন সেখের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী বাড়িতে না থাকায় রাতে সন্তানদের নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে। জীবন বাঁচাতে সন্তানদের নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।

default-image

বর্তমান ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁর বাড়িসহ প্রায় ২০ জন সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অসংখ্য ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘১৫ বছর আগে ইউপি সদস্য ছিলাম। এবার আবার নির্বাচন করব। দুই মাস আগে জহুরুল মেম্বরের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। গতকাল রাতে গুলির শব্দ শুনেছি। আমি ঘটনার সাথে জড়িত নয়। আমার ছেলে পাপ্পু হয়তো ছিল।’

এ বিষয়ে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, তিনি পাঁচ মাস ধরে ঢাকায় আছেন। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী। জহুরুল নিজে নিজে এলাকায় ভাঙচুর করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, গতকাল বিকেলে জহুরুলের লোকজন প্রতিপক্ষের এক সমর্থকের লোককে মারধর করেন। এরপর রাতে ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নির্বাচনী তফসিলের পর আরও বিরোধ বেড়ে যায়। তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে খোকসার বাইরে আছেন। অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন