বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
চাঁদা নয়, বাজারের টোল আদায় করছি। ১০ লাখ টাকা খরচ করে ইজারা নিয়েছি। বাজার থেকে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আদায় করব।
সোহাগ প্যাদা, ইজারাদার, সুবান্ধী হাটবাজার, আমতলী

গাজীপুর বাজারের ইজারাদার ওহাব হাওলাদার খাজনার কথা বলে ট্রাকপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আদায় করছেন। কিন্তু ওহাব হাওলাদার অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

দক্ষিণ গাজীপুর ব্রিজ এলাকায় মো. মন্টু খান নামের এক ব্যক্তি তরমুজবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য খালে বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানিয়েছেন। নলুয়াবাগী, বলইবুনিয়া, পাটুয়া, কাঁঠালিয়া ও টেপুরা এলাকার তরমুজ ওই বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাকে আনা-নেওয়া করা হয়। তিনি বাঁধ নির্মাণের নামে ট্রাকপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছেন। এ পর্যন্ত তিনি তিন শতাধিক ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রাকচালক অভিযোগ করেন।

ট্রাকচালক ও তরমুজ ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, দক্ষিণ গাজীপুর এলাকায় সরকারি কোনো ইজারা নেই। কিন্তু মন্টু খান প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ খানা ট্রাক পারাপার করছেন। ওই ট্রাকগুলো থেকে তিনি চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা না দিলে মন্টু খান ও তাঁর লোকজন ট্রাক আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে মন্টু খান ট্রাক আটকে রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘খালে বাঁধ দেওয়ায় খরচ হয়েছে। ওই টাকা ওঠাতে কিছু চাঁদা আদায় করছি।’

কুকুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া কুকুয়া-গাজীপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছেন। প্রতিদিন ওই সড়কে ১৫-২০টি ট্রাকে তরমুজ ওঠানো হয়।

তরমুজবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগের নেতা রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কোনো চাঁদা আদায় করি না। এখানে বাজারের ইজারাদার বাজারের টোল আদায় করেন। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা।’

জুলেখা বাজারে অমিত রসুল অপি ও সুবান্ধী হাটবাজারে সোহাগ প্যাদা নামে ইজারাদার হিসেবে রসিদ ব্যবহার করে ট্রাকপ্রতি দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার ট্রাকচালক মফিজ বলেন, ট্রাকে তরমুজ লোড দিয়ে মহাসড়কে আনতে চার থেকে পাঁচ স্থানে ধাপে ধাপে চাঁদা দিতে হয়।

ময়মনসিংহের তরমুজ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গত ১০ বছর এই অঞ্চলে তরমুজের ব্যবসা করে আসছি। পথে পথে যেই পরিমাণে চাঁদা দিতে হয়, এ রকম অন্য কোথাও নেই। চাঁদার টাকা আমাদের ওঠাতে আবার বেশি মূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে হয়। ফলে খুচরা ক্রেতারাই ঠকেন।’

এ বিষয়ে আমতলীর ইউএনও এ কে এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, এভাবে টাকা নেওয়ার কথা নয়। যদি কেউ করে থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন