default-image

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এক তরুণকে অপহরণ করে মারধরের পর বস্তাবন্দী অবস্থায় ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষণের মামলা তুলে না নেওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই তরুণকে (২৪) গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সোহালিয়া সেতুর পাশ থেকে দুই হাত-পা বাঁধা বস্তায় ভরা অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁকে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও পরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, ওই তরুণের বুক, মাথা, পিঠসহ পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ বুধবার ভোরে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ওই তরুণের বোন ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। ১৪ নভেম্বর মামলাটির রায়ের দিন ধার্য ছিল।

আহত তরুণ বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনে শ্যামনগর থেকে ফেরার সময় তাঁকে অপহরণ করা হয়। এর আগে থেকে তাঁর বোনকে ধর্ষণের মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।

ওই তরুণের বোন জানান, ধর্ষণের মামলায় নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড বুঝতে পেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে ফুলবাড়ী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক, যাদবপুর গ্রামের সুকুমার মণ্ডল ও দেবীপুর গ্রামের গোলাম রসুলের নেতৃত্বে অপহরণ করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর বস্তাবন্দী করে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সুকুমার মণ্ডলের মুঠোফোন নম্বরে কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক ও গোলাম রসুল বলেন, তাঁরা বিষয়টি জানেন না। তাঁদের নামে একটি মামলা রয়েছে। এটি নিয়েই তাঁরা চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। আবার নতুন করে এটা তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।

তরুণকে অপহরণ করে নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেননি।
নাজমুল হুদা, ওসি, শ্যামনগর থানা

থানা-পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সুকুমার ও গোলাম রসুল ওই তরুণের বোনকে আবু বক্কর সিদ্দিকের ঘেরের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কথিত হুজুর ডেকে এনে সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে পড়ানো হয়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সময় কাটানোর পর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একই বছরের ১১ জুন তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে খুলনার একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে পাঁচ দিন সিদ্দিক, সুকুমার ও গোলাম রসুল তাঁকে ধর্ষণ করেন। ১৬ জুন ক্লিনিকে তাঁর গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে রেখে ২৫ জুন বাড়ির পাশে ফেলে যাওয়া হয়। ২৬ জুলাই তিনি সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৮ আগস্ট তিনি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ২৮ আগস্ট ও ২৫ অক্টোবর পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর আবেদন করেন তিনি। ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর ধর্ষণের মামলার রায়ের দিন ধার্য হয়। এরপর ছয়টি রায়ের দিন চলে গেছে। সর্বশেষ রায়ের দিন ছিল ১৪ নভেম্বর। এখনো রায় হয়নি।

জানতে চাইলে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, তরুণকে অপহরণ করে নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0