default-image

ঠাকুরগাঁওয়ে রেজাউল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণকে হত্যার দায়ে তিন বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন বন্ধু হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বারিল্যা উত্তরপাড়া গ্রামের মো. সুইট আলম (২৪), দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দক্ষিণ পলাশবাড়ি গ্রামের মেকদাদ বিন মাহাতাব (২৪) ও ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর সরকারপাড়া গ্রামের মো. হাসান জামিল (২৭)।

মামলার নথি ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৬ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর এলাকার চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামের একটি গমখেতে অজ্ঞাতনামা তরুণের লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সেদিনই বালিয়াডাঙ্গী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক সৈয়দ আবু তালেব একটি হত্যা মামলা করেন। পরে লাশটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি এম কলেজের শিক্ষার্থী ও একই উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রেজাউল ইসলামের বলে শনাক্ত হয়। ঘটনাটি বালিয়াডাঙ্গী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক এম জগলুল ইসলাম তদন্ত করেন। পরে মামলাটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলাটির আসামি মো. সুইট আলম, মেকদাদ বিন মাহাতাব ও মো. হাসান জামিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। রেজাউলের সঙ্গে মেকদাদ বিন মাহাতাবের বন্ধুত্ব ছিল। সেই সূত্র ধরে ২০১৫ সালের ৪ মার্চ তাঁরা তিনজন মিলে পার্বতীপুর থেকে রেজাউলকে মোটরসাইকেলসহ অপহরণ করেন। এরপর তাঁকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর এলাকার চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামের একটি গমখেতে নিয়ে তিন বন্ধু মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওই তিন বন্ধু রেজাউলের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় করা মামলায় একই বছরের ২৪ আগস্ট তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল হামিদ বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবীর রেজাউল হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রেজাউলের তিন বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড, ২০১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩৮৫ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩৭৯ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0