বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধটির ভেতরে এ পর্যন্ত কৃষকেরা ১০৫ হেক্টর জমির বীজতলায় চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে ১০০ হেক্টর জমির বীজতলাই তলিয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই পানিনিষ্কাশনে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবু পানি সরানোর উদ্যোগ নেই। এতে চলতি মৌসুমে আমন চারার সংকট দেখা দেবে। তাঁর দেওয়া চিঠির কপি স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ফতেপুর, সিপাইকান্দি, চরহরিঘোষ, ঠেটালিয়া, লুধুয়া, গজরা, আমুয়াকান্দা, রাঢ়িকান্দি ও ফরাজীকান্দি এলাকায় বীজতলা পানির নিচে। সেখানে গজাচ্ছে শেওলা ও লতাগুল্ম। ফতেপুর এলাকার কৃষক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এবার তাঁর ৮০-৯০ শতাংশ জমিতে আমনের আবাদ করার ইচ্ছা। এ জন্য দুটি বীজতলা করেছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতায় বীজতলার চারায় পচন ধরেছে।
দ্রুত পানি না সরালে সব চারা নষ্ট হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সেচ প্রকল্পটির ফতেপুর, ঠেটালিয়া ও সিপাইকান্দি এলাকার পানি ব্যবহারকারী দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধটির ভেতরের পানিনিষ্কাশনের খাল প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। তাঁরা সেগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, স্থাপনা ও ব্যক্তিগত রাস্তা বানিয়েছেন। জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণও এটি। বারবার বলা সত্ত্বেও দখলদারদের উচ্ছেদে পাউবোর প্রকৌশলীরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাঁদের দায়িত্বহীনতার মাশুল দিচ্ছেন কৃষকেরা।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বেড়িবাঁধটির ভেতরে জলাবদ্ধতা সরাতে পাউবোর আটটি পাম্পহাউস কাজ করছে। বেশ কিছু নিষ্কাশন খাল ভরাট ও বেদখল থাকায় সব জমির পানি সরছে না। দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান হয়েছে। চলমান বিধিনিষেধের কারণে আপাতত তা স্থগিত। বিধিনিষেধ শেষে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন