বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধী সালমা আক্তারের গল্পটাও অনেকটা একই রকম। মাত্র ছয় মাস বয়সেই তাঁকে রেখে আলাদা হয়ে যান তাঁর মা-বাবা। এর পর থেকেই সালমা বড় হন দাদা-দাদির কাছে। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি না পেরোতেই মারা যান দাদা। সংসারে টানাপোড়েন দেখা দেয়, বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। সংসারের হাল ধরতে চাকরির জন্য তিনিও ছোটেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু কোথাও চাকরি হয়নি। পরে খোঁজ পেয়ে তিনিও কেন্দ্রটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হন।

রহিমা ও সালমার মতো সালেহা, আলমগীর, কৌশিক, সজীবসহ অনেক প্রতিবন্ধীর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এই গল্প গাজীপুরের টঙ্গীর। এখানে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, যেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন প্রতিবন্ধী, দুস্থ, এতিমসহ সমাজের অবহেলিত ব্যক্তিরা।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৪ দশমিক ২১ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮১ সালে। মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, গার্মেন্টস, গবাদি পশুপালনসহ সাতটি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য কৃত্রিম পা উৎপাদন, শ্রবণযন্ত্র সরবরাহসহ ব্রেইল প্রেসের কাজ করা হয়। দেশের যেকোনো প্রতিবন্ধী, দুস্থ বা অসহায় ব্যক্তি চাইলে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে আবাসনসুবিধা।

কেন্দ্রটি থেকে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় চাকরি মেলার। সেখান থেকে জেলা প্রশাসক, কেন্দ্রের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন জনের চেষ্টায় চাকরির ব্যবস্থা করা হয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধীদের জন্য। শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে মোট প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চাকরি মেলায় চাকরি পেয়েছেন ৪৩০ জন প্রতিবন্ধী।

সম্প্রতি কেন্দ্রের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল, জনা বিশেক প্রতিবন্ধীর জটলা। তাঁদের কারও পা নেই, কেউ চোখে দেখেন না, কেউবা শোনেন না কানে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রয়েছে একটি করে খাতা ও কলম। ক্লাস শেষে তাঁরা হাঁটাচলা করছিলেন এদিক-সেদিক।

কেন্দ্রের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই হাতের বাঁয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টস প্রশিক্ষণকক্ষ। এখানে একটি কক্ষে কয়েকটি সেলাই মেশিনে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের শেখানো হচ্ছে পোশাক কারখানাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ। এর বাইরে ভবনের নিচতলায় রয়েছে মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, মোবাইল সার্ভিসিংসহ অন্যান্য বিভাগ। প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে একজন করে প্রশিক্ষক। প্রতিবন্ধীরা প্রশিক্ষকের কথামতো শিখছেন কাজ।

কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. ফখরুল আলম বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা না হয়ে নিজে কাজ করছেন, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করতে পারছি—এটা সত্যিই খুব আনন্দের।’

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানটির দিকে সব সময়ই বিশেষ নজর দিচ্ছি। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নন, তাঁরাও যে দেশের উন্নয়নের অংশ হতে পারেন, এটা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ব্যক্তিদের দেখলেই বোঝা যায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন