রোববার বিকেলে বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বোরো জমিতে ঢুকে হাতিটি এদিক–সেদিক যাওয়ার চেষ্টা করছে। মাহুত ও তাঁর সহযোগীরা হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। চারদিকে শত শত মানুষ ভিড় করে হাতির তাণ্ডব দেখছে। এ সময় বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মানুষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। হাতির কোনো ক্ষতি না করতে এবং কাছে না যেতে করা হয় মাইকিং।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান মুঠোফোনে ঢাকায় প্রধান বন সংরক্ষককে বিষয়টি অবগত করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বিকেল পৌনে চারটার দিকে বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন মাহুত। এরপর তিনি হাতিটিকে নিয়ে রংপুরের দিকে চলে যান।

বল্লমঝাড় ইউপির চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, ফসলের একটু ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া মানুষের বা ঘরবাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেন, সার্কাসের হাতি সাধারণত এ ধরনের আচরণ করে না। সে হয়তো বেশি ক্ষুধার্ত ছিল। মাহুত হাতিটির মাথায় আঘাত করে সেটিকে পরিচালনার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। সেই কারণে হয়ত হাতিটি এমন আচরণ করেছে। তিনি আরও বলেন, সার্কাসের হাতি লোকালয়ে নিয়ে ঘোরার কথা নয়। খাবারের সংকট হলে হাতির মালিকেরই তা দেওয়ার কথা।

হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেন হাতির মাহুত শাকিল ইসলাম। তিনি বলেন, হাতি দেখে অনেকে খুশি হয়ে ১০-২০ টাকা দেন। তা তাঁরা হাতির পেছনে খরচ করেন। তবে হাতিটিকে বাইরে আনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি শাকিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন