অধিক তাপমাত্রার পাশাপাশি এবার বরিশালে বৃষ্টিহীনতার প্রবণতাও বেশি। বিভাগে জানুয়ারিতে যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৮ দশমিক ৯ মিলিমিটার, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ৪ দশমিক ৩। ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা ২৭ মিলিমিটার, সেখানে হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪। ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হয় বিভাগে। কিন্তু মার্চে ৫৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়া কথা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি এক ফোঁটাও। এপ্রিলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ১৩৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার, সেখানে গত ২৫ দিনে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হন। গত বছরের মতো এবারও আক্রান্তের হার বেশি।
শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল, উপপরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, এবার জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিহীনতা তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিকে আরও অসহনীয় ও ঊর্ধ্বগামী করে তুলছে। তিনি বলেন, আগামী ২ মের আগে আপাতত বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই।

তাপমাত্রা ও বৃষ্টির এই অস্বাভাবিকতা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ও কৃষির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগব্যাধি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৯১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ ২৫ দিনে ১৪ হাজার ৩১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে বিভাগে ৪ হাজার ৮১১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরের মাসে তা অনেকটা কমে গিয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৮১০ জন। আর মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৫২ জনে। এরপর এপ্রিলের ২৫ দিনে তা আরও বেড়ে হাসপাতালে এসেছেন ১০ হাজার ৮১৪ জন ডায়রিয়া রোগী। গত এক সপ্তাহে ৩ হাজার ৬৭৮ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী বরিশালে—৭ হাজার ৯১১ জন। দ্বিতীয় ভোলা জেলায় ৫ হাজার ৩০৬, এরপরে পটুয়াখালী জেলায় ৪ হাজার ৫৩৫। এ ছাড়া পিরোজপুরে ৪ হাজার ১৪১, বরগুনায় ২ হাজার ৫৪৬ ও ঝালকাঠিতে ২ হাজার ১৫২ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সরকারি হিসাবের খাতায় আসে। কিন্তু আক্রান্ত রোগীর ৬০ ভাগই হাসপাতালে যান না।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, চৈত্র-বৈশাখে পানিবাহিত রোগটির প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হন। গত বছরের মতো এবারও আক্রান্তের হার বেশি। এবার ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিহীনতা ডায়রিয়ায় আক্রান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আরও বলেন, ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি তাপমাত্রা কমা ও বৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে এখনো কারও মৃত্যু হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন