তারাগঞ্জ যেভাবে করোনামুক্ত

বিজ্ঞাপন
default-image

ঝুড়িভর্তি মৌসুমি ফল নিয়ে করোনায় আক্রান্তের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন। কখনো ঘরবন্দী মানুষের কাছে ছুটে গেছেন চাল, ডাল, আলু, তেল, লবণ নিয়ে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ও ইউএনও আমিনুল ইসলাম। তাঁদের এই কর্মকাণ্ডের সুফলও মিলেছে। গত এক মাসে উপজেলায় করোনায় নতুন করে কেউ সংক্রমিত হননি। আগের আক্রান্ত ২৯ জনই সুস্থ হয়েছেন। 

সয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আজম বলেন, তারাগঞ্জকে করোনামুক্ত রাখতে ইউএনও, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন। তাঁরা হাট থেকে হাটে, গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটছেন। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল তারাগঞ্জ স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে দুজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ উপজেলায় প্রথম তিনজন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। পরে উপজেলায় মোট ২৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে। তবে গত ১ জুলাইয়ের পর গত এক মাসে ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি।

কুর্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, ২৭ এপ্রিল তারাগঞ্জে প্রথম তিনজন কোভিডে আক্রান্ত হন। এরপর ইউএনও আমিনুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান তারাগঞ্জকে করোনামুক্ত রাখার পরিকল্পনা নেন। ২৮ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের হলরুমে করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারাগঞ্জকে কীভাবে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সবাই সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। ইউএনও, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা করোনা শনাক্ত ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করার কাজে নেমে পড়েন। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউনের পর ওই গ্রামের লোকদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে সচেতনতামূলক সভা করেন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে ঘরের বাইরে বের হতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজনী ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী গাড়িতে করে পৌঁছে দেন। গ্রামে ঘুরে অন্য দুস্থদের ঘরেও চাল, ডাল, তেল পৌঁছে দেন। বিভিন্ন হাটবাজার, গ্রাম ঘুরে সচেতনতামূলক সভা করা ছাড়াও মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। ‘মাস্ক নেই তো সেবা নেই’ স্লোগানে সব ধরনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেন। এসব কারণে তারাগঞ্জে করোনা সংক্রমণ কমে যায়।

জানতে চাইলে ইউএনও আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই করোনা মহামারিতে মানবসেবার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। এ সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। করোনা শুরুর দিক থেকেই সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। বিশেষ করে এমপি স্যার সহযোগিতা করছেন। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান স্যার নিজের তহবিল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭ হাজার মাস্ক সংগ্রহ করে দিয়েছে। সব সময় খোঁজ নিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তো সব সময় মাঠে কাজ করছেন। পাঁচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ও সাংবাদিকেরাও সহযোগিতা করছেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তফা জামান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মচারীদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। ‘মাস্ক নেই তো সেবা নেই’ স্লোগানে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনদের মাস্ক পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। আক্রান্ত ২৯ জনই সুস্থ। সর্বশেষ ৩০ জুলাই মেনানগর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের নমুনা নেওয়া হলেও তা নেগেটিভ এসেছে। বর্তমান তারাগঞ্জ করোনামুক্ত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন