default-image

মাগুরায় তালের ডোঙার সঙ্গে হাত বেঁধে সাত বছরের এক শিশুকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে মাগুরার নবগঙ্গা নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ বছরের এক কিশোর এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগের বিরোধের জের থেকে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

নিহত ওই শিশুর নাম মাহিদ মোল্লা (৭)। সে মাগুরা পৌর এলাকার বারাশিয়া গ্রামের মজিরুল ইসলামের ছেলে ও বারাশিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে মাহিদ মোল্লা নিখোঁজ ছিল। সারা দিন খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে সন্ধ্যায় মাগুরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা মজিরুল ইসলাম। পরদিন সকালে মজিরুলের শ্বশুর ও এক চাচাতো ভাইয়ের মুঠোফোনে অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে প্রথমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তা দেওয়ার অক্ষমতা প্রকাশ করলে শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাত নম্বরের ওই মুঠোফোন ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা হয়। পরে শনিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৫ বছরের দুই কিশোর ও একজনের বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত ওই শিশু ও অভিযুক্ত এক কিশোরের বাবা পরস্পর চাচাতো ভাই। কয়েক মাস আগে মাহিদের বাবা ওই কিশোরের বাবাকে মারধর করেছেন। সেই ক্রোধ থেকে মাহিদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাত নম্বরের ওই মুঠোফোন ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা হয়। পরে ১৫ বছরের দুই কিশোর ও একজনের বাবাকে আটক করে পুলিশ।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নুল আবেদিন বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই কিশোরসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আর একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য পড়ুন 0