বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যাদুকাটা নদীতে জেলার তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত। এখানে কাজ করেই তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা না পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহালটি বন্ধ করে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এ জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, যাদুকাটা নদীর বালুমহালটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি মহালটি চালু হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা আবদুস সাত্তার, আবদুল জলিল, মনাই মিয়া, আলী হোসেন প্রমুখ।
তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হওয়ার পর পাল্টা চেয়ারম্যানের পক্ষে বিকেলে মিছিল হয়েছে উপজেলা সদর ও উপজেলার বাদাঘাট বাজারে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী ৩ নভেম্বর এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ইজারা করা বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে শেফ মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে মানুষের ঘরবাড়ি, মহারাম নদীর বেড়িবাঁধ, ঘাগটিয়া গুচ্ছগ্রাম, পর্যটকদের প্রিয় স্থান শিমুল বাগান, লাউরেরগড় বাজার, রাজারগাঁও, বিন্নাকুলি, লামাশ্রম, ঘরকাটি, ঘাঘড়া গ্রামগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতি, পরিবেশ, জলজ উদ্ভিদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
করুণা সিন্ধু চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এলাকাবাসীর স্বার্থে এই চিঠি দিয়েছি। এটির তদন্ত হওয়ার পর সত্যতা পেয়ে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে। এখন একটি পক্ষ যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারাই ভাড়াটে লোক দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছে। আমি কোনো কিছুতেই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন