তাহেরীর সভা বন্ধ করে দিল পুলিশ

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর মাদক ও কিশোর গ্যাং–বিরোধী সভা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চাপুইর গ্রামে গিয়ে সভা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পুলিশ বলছে, সভার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। করোনাকালে গণজমায়েত করা যাবে না।

default-image

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চাপুইর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। চাপুইর গ্রামের নিজ বাসভবনের সামনের খোলা জায়গায় দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাদক ও কিশোর গ্যাং–বিরোধী সভার আয়োজন করেন তাহেরী। সভায় মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আল আমিনুল হকের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সভা বন্ধ করে দেন। পুলিশের বাধার কথা শুনে ইউপি চেয়ারম্যান সভায় অংশ নেননি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই সময় করোনাভাইরাসের কারণে গণজমায়েত করা যাবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মাছিহাতা ইউপির চেয়ারম্যান আলামিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সোমবার তিনি (গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী) আমাকে ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণ করেন। যদি এটি শুধু মাদকবিরোধী অনুষ্ঠান হতো তাহলে হয়তো যেতাম। কিন্তু করোনার এই সময়ে জনসমাগম ঘটিয়ে অনুষ্ঠান করায় আমি অনুষ্ঠানে যোগদান করিনি।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী প্রথম আলোকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার কঠিন অবস্থানে রয়েছে। আর ইদানিং কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। করোনাভাইরাসের কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মাদক ও কিশোর গ্যাং–বিরোধী অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন মাদকের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান, তখন পুলিশি বাধার কারণে মাদকবিরোধী এই অনুষ্ঠান করতে না পারা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, ‘সভার মাধ্যমে আমি এলাকায় মাদকবিরোধী একটি কমিটি করতে চেয়েছিলাম।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারিভাবে গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই সভা বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে সব ধরনের সভা ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আর ওই ইসলামি বক্তা অনুষ্ঠানের জন্য কোনো ধরণের অনুমতি নেয়নি। তাই তাকে সভাস্থল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন