default-image

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ রিমান্ডে থাকার পর আদালতে গিয়ে তিন আসামি এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়ে জবানবন্দি দেন। এরপর গত বছরের আগস্টে সেই কিশোরী বাড়ি ফিরে এলে তোলপাড় শুরু হয়। ওই কিশোরীকে অপহরণের মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। ১৬ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আতাউর রহমান নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আগামী ২৯ এপ্রিল আদেশের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন আবদুল্লাহ (২২), মো. রকিব (১৯) ও কিশোরীর কথিত স্বামী ইকবাল পণ্ডিত (২৭)। অভিযোগপত্রে তিনজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ থেকে নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁর নৌকা জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে।

গত বছরের ৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১৫ বছরের কিশোরী। ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কিশোরীর বাবা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আবদুল্লাহ নামের একজন উত্ত্যক্ত করতেন। আবদুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর মেয়েকে অপহরণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ আবদুল্লাহ এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে অটোরিকশাচালক রকিব ও মাঝি খলিলকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁরা তিনজনই আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা বলেন, ওই কিশোরীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। ৫১ দিন পর গত বছরের ২৩ আগস্ট বাড়িতে ফিরে এলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আসামির পরিবার অভিযোগ করে, পুলিশ তাঁদের নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ থানার এসআই শামীম আল মামুনকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও বরখাস্ত করা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত বছরের ১১ নভেম্বর সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

এরপর ১৬ মার্চ অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, তিন আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি। নৌকার মাঝি খলিলুরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই কিশোরীকে স্কুলে যাতায়াতের সময় আবদুল্লাহ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন। মেয়েটি প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আবদুল্লাহ তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৪ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে আবদুল্লাহ তাঁর বন্ধু রকিবের মুঠোফোন দিয়ে ফোন করে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন। আবদুল্লাহর ফোন পেয়ে মেয়েটি তাঁর ঠিকানামতো গেলে আবদুল্লাহ রকিবসহ অজ্ঞাতনামা দু-তিনজনের সহযোগিতায় মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন আবদুল্লাহ। সহযোগিতা করেন রকিব। পরে মেয়েটির সঙ্গে ইকবাল পণ্ডিতের যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে ইকবাল মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যান। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে ফুসলে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বসবাস করতে থাকেন ও তাকে ধর্ষণ করেন।

তবে আবদুল্লাহর আইনজীবী রোকন উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগপত্র দিয়েছে। ভিকটিম ২২ ধারা জবানবন্দিতে আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন