default-image

চার বছর আগে শেষবার দেশে এসেছিলেন তানভীর আহাম্মদ। স্ত্রীকে ফোনে বারবারই বলেছিলেন, এবার দেশে আসতে চান। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি শেষ হলেই আসবেন। সেই তিনি দেশে পরিবারের কাছে ফিরে এলেনই। তবে লাশ হয়ে ফিরলেন। তাঁর তিন বছরের সন্তান এই প্রথম বাবাকে দেখল। তা–ও জীবিত না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তানভীর ১৯ আগস্ট গভীর রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের হাতে খুন হন। হত্যার ছয় দিন পর তাঁর লাশ গতকাল মঙ্গলবার দেশে আনা হয়।

গতকাল রাতে তানভীর আহাম্মদের লাশ গ্রামের বাড়ি কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের ভল্লভপুর গ্রামে আনার পর পরিবারে আহাজারি শুরু হয়। নাঈমুল হকের তিন ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে তানভীর ছিলেন সবার ছোট।

বিজ্ঞাপন

তানভীরের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে তানভীর আহাম্মদ দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে তিনি ব্যবসা করতেন। ২০১৩ সালে তানভীর ছয় মাসের ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসে উপজেলার চারগাছ গ্রামের উম্মে ফারহানাকে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে ছয় মাসের ছুটিতে তিনি শেষবার দেশে আসেন। তানভীর–ফারহানা দম্পতির মাইশা (৬) ও তায়েবা (৩) নামে দুই মেয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

তানভীর দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েস্ট প্রদেশের বাণিজ্যিক শহর জিরাস্টে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি লকডাউনের কারণে ব্যবসা বন্ধ থাকায় তিনি স্থানীয় একটি স্বর্ণের খনিতে খণ্ডকালীন চাকরি নেন। এক সপ্তাহ আগে ১৯ আগস্ট রাতে একদল সন্ত্রাসী তানভীরকে হত্যা করে তাঁর বাসায় লাশ ঝুলিয়ে রাখে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সেই দেশে থাকা তানভীর আহাম্মদের ভগ্নিপতি মো. হাসান খান বাসায় এসে তানভীরের লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ওই দেশের পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশটির ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদের মাঠে জানাজা শেষে হিমঘরে রাখা হয়েছিল।

গতকাল বিকেলে একটি কার্গো বিমানে ঢাকার শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তানভীরের লাশ আসে। লাশ গ্রহণ করেন তানভীরের বড় ভাই মো. ইকবাল হোসেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশ নিয়ে আসা হয় ভল্লভপুর গ্রামে। আজ বুধবার পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তানভীরের লাশ বাড়িতে আসার পর থেকেই চলছে কান্নার রোল। বৃদ্ধ বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আজ সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী উম্মে ফারহানা আহাজারি করছেন। বড় মেয়ে মাইশা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আর ছোট মেয়ে তায়েবা কিছুই বুঝতে পারছে না। সে কখনো বাবাকে সামনাসামনি দেখেনি। এই প্রথম দেখল, তা–ও মৃত।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রী উম্মে ফারহানা বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগের দিনও ফোন করে বলেছিল, দেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আসতে পারছে না। করোনাভাইরাস শেষ হলে দেশে আসার কথা ছিল। সেই তো এল, কিন্তু জীবিত আসতে পারেনি।’

তানভীরের মা নেই। বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তানভীর আহাম্মদের বড় ভাই মো. ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীরা তাঁর ভাইকে খুন করেছে। হত্যার পর লাশটি বাসায় ঝুলিয়ে রেখেছিল। হত্যার কারণ সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না।

মন্তব্য পড়ুন 0