ওই দাবিতে ২৪ জুন খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেবে সংগঠন দুটি। এ ছাড়া ৩০ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি আদায় না হলে ঢাকা থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, গত বছর ২ জুলাই রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল একযোগে বন্ধ করার মধ্য দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিককে একসঙ্গে কর্মহীন করে দেওয়া হয়েছে। যখন সারা দেশে করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে পাটকল বন্ধ করে দিয়ে সব শ্রমিকদের পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করার সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই মাসের মধ্যে সব শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে তিন মাসের মধ্যে মিলগুলোকে আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে খুবই ধীরগতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। এখনো স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনাটাই পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের দেখানো হয়নি পাওনার কোনো হিসাব। নাম–সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে আজও অনেক স্থায়ী শ্রমিকদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্থায়ী শ্রমিকদের বাইরে ২১টি পাটকলেই আছে ২৬ হাজার বদলি শ্রমিক। অথচ এসব শ্রমিক আজও বুঝে পাননি তাঁর বকেয়া টাকা। কবে নাগাদ তাঁরা টাকা হাতে পাবেন, তা–ও জানেন না। গত এক বছর বদলি শ্রমিকেরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। অধিকাংশ বেকার, তাঁরা বাসাভাড়া জোগাড় করতে পারছেন না, না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছেন। তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত।

আবার বন্ধঘোষিত ২৬টি পাটকলের মধ্যে ৪টি পাটকল সম্পূর্ণ অস্থায়ী বা দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের দিয়ে পরিচালিত হতো। কিন্তু ওই চার মিলের কোনো শ্রমিককে আজ পর্যন্ত কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তাঁদের অবস্থাও ঠিক বদলি শ্রমিকদের মতোই।
সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন, বদলি-অস্থায়ী শ্রমিক খুলনা যশোর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হামজা গাজী, খালিশপুর জুটমিলের শ্রমিকনেতা আলমগীর কবির, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের খুলনা জেলা সভাপতি হুমায়ন কবির, স্টার জুট মিলের বদলি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ও সহসভাপতি ফরিদ মল্লিক।