মৃত্যু ও নিখোঁজ—দুটোই বেশি নড়িয়ার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে মৃত্যুর প্রধান কারণ নৌকাডুবি, প্রচণ্ড গরম ও ঠান্ডা। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে নড়িয়ার ১০ তরুণ নৌকাডুবিতে মারা যান। এ ছাড়া ২০২১ সালে নৌকাডুবিতে সদরের দুজন, গরমে অসুস্থ হয়ে নড়িয়ার দুজন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঠান্ডায় নড়িয়ার আরেক তরুণ মারা যান।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যেও বেশি নড়িয়ার, ১৫ জন। এ ছাড়া সদর উপজেলার পাঁচজন, ভেদরগঞ্জের চারজন ও জাজিরার ছয়জন নিখোঁজ আছেন। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

পরিবারগুলো নিঃস্ব

গত ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে ঠান্ডায় মারা যাওয়া কামরুল হাসান ছিলেন আবুল বাশার ও লাভলি বাশারের একমাত্র ছেলে। তাঁকে ইতালি পাঠাতে স্থানীয় এক দালালের সঙ্গে আট লাখ টাকায় চুক্তি হয় এ পরিবারের। এখন একমাত্র ছেলে, অর্থ হারিয়ে অসহায় কামরুল হাসানের বাবা আবুল বাশার কাজী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলে পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছিল। অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে বিপদ জেনেও ছেলেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠাই। কিন্তু ছেলে আমার লাশ হয়ে গেল।’

২০১৯ সালে ১৫ মে নড়িয়ার ১০ তরুণ ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে মারা যান। তাঁদের একজন পারভেজ মৃধা। তাঁর মা পারভিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ৯ বন্ধুর সঙ্গে পারভেজ সমুদ্রপথে ইতালি রওনা হন। সমুদ্রে নৌকা ডুবে সবার সঙ্গে তাঁর ছেলেও মারা যান। ছেলের লাশটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘জমি বিক্রি করে ছেলেকে পাঠাতে সাড়ে সাত লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিই। ছেলে ও সম্পদ হারিয়েছি। শোকে আমার স্বামীও মারা গেছেন।’

মামলার হালহকিকত

পুলিশ জানায়, ইতালি যাওয়ার পথে মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনায় গত তিন বছরে মামলা হয়েছে ৪৭টি। এর মধ্যে ২৫টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ১২টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। ১০টি মামলার তদন্তকাজ চলছে। অভিযোগপত্র দেওয়া ২৫টি মামলার মধ্যে ৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলার আসামিরা খালাস পেয়েছেন। আর বাকি ১৬টি মামলার বিচারকাজ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেক স্বজন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মীমাংসা করে ফেলছেন।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশ্রাফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচারের মামলাগুলো হওয়ার পর দালালচক্র ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মীমাংসা করে ফেলে। এতে সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে মামলাগুলো বেশি দূর এগিয়ে নেওয়া যায় না। (শেষ)

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন