মাহিনুর বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘তিন মাস ধইরে আমাগে বস্তির কলে পানি ওঠে না। অনেকরে জানালিও কেউ গুরুত্ব দেয় না। পানির জন্যি এখানে–ওখানে দৌড়িয়ে বেড়াই। এজন্যি এই বাড়ির মালিক আমাগে পানি দেয়। সকাল ৯টায় পানি ছাড়ে। দেড় ঘণ্টা পানি দেয়। আবার পানি ছাড়ে আসরের পর। জীবনডা এট্টু বাঁইচে রইছে।’

মো. রবিউল মৃধা সকালে ভ্যান নিয়ে বের হন। সময় করে সকাল ১০টার মধ্যে পানি সংগ্রহের জন্য ফিরে আসেন। লাইনে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো পানি সংগ্রহ করে আবার কাজে বেরিয়ে পড়েন। রবিউল বলেন, ‘বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা, শ্বশুরসহ আমার পরিবারে ১১ জন সদস্য। দুইটা ড্রাম পানি সংগ্রহের চেষ্টা করি। নাওয়া-খাওয়া সব এক পানিতেই। বয়স্ক আর নারীরা বাদে পরিবারের লোকজন দুপুরে গোসল বাইরের পুকুর থেকে সেরে আসে। দুপুরে কাজ সেরে এসে ছুটতে হয় আন্দির পুকুর না হলে নিরালা দিঘিতে।’

পানি নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে লাইলি বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন বড়জোর দুই শ টাকা আয়। এরপর যদি পানির পেছনে ৫০-৬০ টাকা খরচ করা লাগে, তাহইলি পারব না। আর খাওয়ার পানি না হয় একটু কেনা গেল, অন্য কাজের পানি কোথায় পাব? পানি নিয়েই আমাগে মরণদশা।’

অন্যের বাড়িতে কাজ করেন নাসিমা বেগম। সকালে কাজ কিছুটা সেরে এসে পানি সংগ্রহ করেন। যেদিন সকালে পারেন না, সেদিন চেষ্টা করেন বিকেলে পানি নিতে। নাসিমা বলেন, ‘সংসারের জন্য পানির গুছিয়ে রেখে যেতে হয়। কাজ-কামে যাইতে দেরি হয়। সবাই আবার সিরিয়ালে পানি পায় না। কোনো কোনো সময় ভাগে এক কলস আনতে পারে, কেউ হয়তো পারে না। ওই পানি দিয়ে ধোয়া-পালা, গোসল খাওয়া সবই সারতে হয়।’

বস্তির বাসিন্দারা জানান, হীরার বস্তি ব্যক্তিমালিকাধীন বস্তি। বস্তিতে ওয়াসার কোনো লাইন নেই। টিউবওয়েলেও পানি নেই। তাঁরা একটা নলকূপের জন্য কাউন্সিলরের কাছে বারবার গেছেন। তিনি কোনো সমাধান করতে পারেননি।

এ বিষয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শমসের আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সিটি করপোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ–বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ওয়াসার কাজ শুরুর পর আগের মতো গভীর নলকূপ দেওয়া হয় না। তবে সেসব বস্তি এলাকায় পানির তীব্র সংকট রয়েছে, তাঁদের সংকট নিরসনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন