স্বরবাণী দাস প্রথম আলোকে বলেন, ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পরও তাঁরা ভাবেননি ঝড়-বন্যা হবে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্যার পানি আসার খবর পান। দ্রুত মেয়েদের বড় দুজনকে ওদের বাবার কাছে ও ছোট মেয়েকে নিজে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা হন। ঘর থেকে বের হতেই বন্যার পানির ধাক্কায় তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

জোয়ারের পানির স্রোতের সঙ্গে দুই-তিন ঘণ্টা যুদ্ধ করার পর ভাসমান ঘরের চালের আঘাতে কোমরের নিচে কেটে যায় স্বরবাণীর। তখন হাত ফসকে ছোট মেয়ে স্রোতে ভেসে যায়। ভোরে একটি খালের পাশ থেকে স্থানীয় লোকজন স্বরবাণীকে উদ্ধার করেন। এক বছর চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হন তিনি।

সেই রাতের স্মৃতিচারণা করে এখনো ভয়ে কেঁপে ওঠেন গণেশ দাস। তিনি বলেন, ‘আমার দুই কাঁধে স্বপরী ও ঋপরীকে বসিয়ে চার ঘণ্টা লড়াই করলাম। ভোরের দিকে সব শক্তি শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ ঋপরী কাঁধ থেকে পানির স্রোতে ভেসে যায়। এ সময় স্বপরী ছোট্ট হাতে আমাকে ঝাঁকি দিয়ে বলছিল, ‘‘বাবা, ঋপরী ভেসে যাচ্ছে। ওকে ধর।” কিন্তু আমি নির্বাক ছিলাম। এর কয়েক মুহূর্ত পরে স্বপরীও পানির স্রোতে ভেসে যায়।’

ভয়াল ২৯ এপ্রিলের ৩১ বছর পার হলেও সন্দ্বীপের চারপাশে নেই কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ। এখনো এ অঞ্চলের মানুষ ষাটের দশকের ভঙ্গুর বেড়িবাঁধের ওপর ভরসা করে বেঁচে আছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আগামী জুনে ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার ব্লক বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হবে। এ বেড়িবাঁধ বিচ্ছিন্নভাবে রহমতপুর, সারিকাইত ও ছোয়াখালী এলাকায় নির্মিত হয়েছে। মোট কাজের শেষ হয়েছে ৯২ শতাংশ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীন প্রথমে আলোকে বলেন, সন্দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। দ্বীপকে টেকসই বেড়িবাঁধ দিয়ে ধরে রাখতে নতুন করে ১৭ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার ব্লক বেড়িবাঁধের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। গত ১৬ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবটি উঠেছে।

প্রস্তাবটি পাস হয়ে একনেকে যাবে, এমন আশা করে শওকত ইবনে শাহীন বলেন, আগামী বছরের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবেন। তত দিনে এসব এলাকার ৫২০ মিটার দৈর্ঘ্যের পৃথক তিন স্থানে জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী সংস্কার করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি হিসাবে, সন্দ্বীপে জনসংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার। শুধু উপকূলে বাস করছেন ৭০ হাজারের মতো। মোট জনসংখ্যার বিপরীতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১১২টি এবং মুজিব কিল্লা ৪টি। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা গড়ে ৪০০ হলে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া যাবে মোট ৪৫ হাজার ৬০০ জনকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট খীসা প্রথম আলোকে বলেন, যতগুলো আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, তাতে এক লাখ লোক রাখা যাবে। সন্দ্বীপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এত মানুষ নেই বলে দাবি তাঁর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন