default-image

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে বহিষ্কার ও দুই শিক্ষককে অপসারণ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে খুলনার সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওই শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ে সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। ওই সমাবেশে খুলনার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এই সমাবেশের পাশেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যানারেও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণাকারী ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর রাজনীতিসংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা প্রকাশ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে তৎপর। ছাত্রদের ন্যায়সংগত, যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানোর অপরাধে এক শিক্ষককে বরখাস্ত ও অন্য দুই শিক্ষককে অপসারণে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যে দণ্ড দিয়েছে, তা স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। ভিন্নমত পোষণকারীদের অন্যায়ভাবে দমন ও কণ্ঠরোধ করে শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মুক্তবুদ্ধি চর্চা, দাবিদাওয়া পেশ ও ন্যায়সংগত আন্দোলনের অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা থাকা। বক্তারা অবিলম্বে ওই শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে খুলনার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশগ্রহণ করে। বক্তারা বলেন, ছাত্রদের ন্যায়সংগত, যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানোর কারণে ওই শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি অন্যায়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদা। সঞ্চালনা করেন পরিষদ নেতা আফজাল হোসেন। সংহতি জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও বিএমএ খুলনার সভাপতি শেখ বাহারুল আলম, খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক আ ফ ম মহসীন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান, খুলনা বিভাগীয় আয়কর আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি এস এম শাহ নেওয়াজ আলী, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান প্রমুখ।

default-image

পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত, একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১২তম সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনৈতিকভাবে ওই শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে খুলনার বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন