তিস্তার ভাঙন থেকে বাঁচতে ঘর, আসবাব নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে যাচ্ছেন কৃষক মাসুদ রানা। আজ রোববার রংপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের ইচলি গ্রামে।
তিস্তার ভাঙন থেকে বাঁচতে ঘর, আসবাব নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে যাচ্ছেন কৃষক মাসুদ রানা। আজ রোববার রংপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের ইচলি গ্রামে।মঈনুল ইসলাম

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও স্থানীয় জনগণ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে এই ইচলি গ্রামে প্রায় ৬৫০ পরিবারের বাস ছিল। ২ বছর আগে বন্যা ও নদীভাঙনে এই এলাকার ৫০ পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র চলে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ পরিবার সেখানে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ বছর কয়েক দফা বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে এই এলাকা ভাঙতে শুরু করে।

আজ ভাঙনকবলিত ইচলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে। ফলে একের পর এক আবাদি জমি ও বসতভিটা ভেঙেই চলেছে। অভাবী মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপায় না পেয়ে তারা সেখান থেকে এবার অন্যত্র ছুটে চলেছে। কেউ যাচ্ছে পাশের কোলকোন্দ ইউনিয়নে আত্মীয়ের কাছে। কেউ সদর ইউনিয়নের গান্নাপার এলাকায়। আবার যাদের কেউ নেই তারা যাচ্ছে তিস্তা সেতুর পাশে কাকিনার পাকা সড়কের পাশে।

বিজ্ঞাপন

তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে সেখান থেকে এ বছর বাড়িঘর নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন কৃষক মাসুদ রানা। তিনি তাঁর তিনটি টিনের ঘর খুলে এবং আবসাব নৌকায় তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘মেলা বছর থাকি এই এলাকাত (ইচলি) আছনো। এবার নদীর ভাঙন উল্টা পথে হইছে। চর হওয়ার কারণে এবার নদী ঘুরি গেইছে। তাই হামার গ্রাম ভাঙতোছে।’

কৃষক শফিকুল ইসলাম দুটি টিনের ঘর ভেঙে তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে কাকিনা এলাকায় বসত গড়বে বলে জানা গেল। তিনি দুই যুগ থেকে ইচলি এলাকায় বসবাস করলেও নদীর ভাঙন ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘নদীর যে ভাঙন শুরু হইছে—তাতে করি মনে হয় এই গ্রামটা এবার টিকপার নয়।’

কৃষক জেয়ারত উল্লার দুই একর আবাদি জমিসহ বসতভিটা এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে আরিফ মিয়া, জয়নাল আবেদীন, লেবু মিয়া, হোসেন আলীসহ আরও অনেকেই তাঁদের টিনের ঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীটারি ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদীর উত্তর–পশ্চিমে শংকরদহ এলাকা থেকে ইচলি হয়ে পাশের কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকা পর্যন্ত গত বছর একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু পাউবো গুরুত্ব না দেওয়ায় এবার নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়।

পাউবো রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, নদীভাঙন ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। চীনের সহযোগিতায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধে কাজ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন