বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইতিমধ্যে বাদুড়তলা লঞ্চ টার্মিনাল ও এর আশপাশ এলাকার সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাদুড়তলা বাজারের অধিকাংশ এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, একাধিক বিদ্যালয়, বাদুড়তলা জামে মসজিদসহ বেশ কিছু স্থাপনা। নদীপাড়ের বেশ কিছু পরিবার তাদের বাড়ির মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। বড় বড় গাছ কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ।

বাদুড়তলা-পুখরীজানা-মানকিসুন্দর সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাদুড়তলা-চল্লিশ কাহনিয়া সড়ক ভেঙে গেছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বাদুড়তলা এলাকায় দেখা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একটি ভবনের অংশ ভেঙে ঝুলে আছে। মূল ভবনের বাকি অংশও হুমকির মুখে।

নাপিতের হাট ও চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, গত দু-তিন বছরে তাঁদের কয়েক শ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বাদুড়তলা গ্রামের বাসিন্দা জেলে মোতালেব ফকির ও কৃষক আজিজ মুন্সি বলেন, গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের হুমকিতে আছে। এতে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাদুড়তলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. নিজাম হাওলাদার জানান, পার্শ্ববতী কাঁঠালিয়া-বেতাগী খেয়াঘাটের পূর্ব দিকে বিশাল চর জেগে উঠেছে। জোয়ারের পানি ওই চরে বাধাগ্রস্ত হয়ে রাজাপুরের পশ্চিম দিকে (মঠবাড়ি-বড়ইয়া) স্রোতের আঘাতে এই ভাঙন হচ্ছে।

ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান মঠবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান জালাল আহম্মেদ। তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। অনতিবিলম্বে ভাঙন ঠেকাতে ব্লক ফেলা জরুরি।

ঝালকাঠি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, ‘বিশখালী নদীতে বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত দেড় কিলোমিটার এলাকা সিসি ব্লকের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। মাঠপর্যায়ে আমাদের একটি জরিপ দল ভাঙনের স্থান চিহ্নিত করতে কাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন