default-image

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে সজীব ইখতিয়ার (২১) নামে এক কলেজছাত্রকে তাঁর মামার বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ‘সাদাপোশাকে’ কিছু লোক তুলে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ কলেজছাত্রের সন্ধান চেয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাব ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ আছানপুর থেকে সজীবকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ সজীব ইখতিয়ার সিলেটের টিলাগড় রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ আছানপুর থেকে সজীবকে ‘সাদাপোশাকে’ কিছু লোক তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। জামালগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পেরেছে, সজীবকে পুলিশের ঢাকার একটি দল নিয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সজীবের মা মোছা. নাদিরা বেগম বলেন, ছেলেকে নিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ আছানপুরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে বাড়ির সামনে থেকে গত ২৮ এপ্রিল সাদাপোশাকের ১০-১২ জন সশস্ত্র লোক মাইক্রোবাসে করে ছেলেকে তুলে নিয়ে যান। ওই দলটিতে জামালগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। তবে কেন ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, সেটি জানতে জামালগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কিছুই বলেননি। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটিও রাখেননি। তবে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, ছেলেকে পুলিশের ঢাকার একটি দল নিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
পুলিশের কাছ থেকে দুটি নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করেছিলাম। এর মধ্যে একটি নম্বর পুলিশের নয় বলে অপর পাশ থেকে জানানো হয়েছে। অন্য নম্বরটিতে ফোন দিয়ে ভাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে আমার ভাই সেখানে নেই বলে জানিয়েছেন।
শাকিল বখতিয়ার, নিখোঁজ সজীব ইখতিয়ারের বড় ভাই

নাদিরা বেগম আরও বলেন, সজীব কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দেশবিরোধী ও সমাজবিরোধী অভিযোগ বা মামলা নেই। এরপরও তাঁকে তুলে নিয়ে ছয় দিন ধরে গুম করে রাখা হয়েছে। যা দেশের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সব কটি শাখায় গিয়েও ছেলের কোনো তথ্য পাননি। পরে ২ মে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজির হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানান। তিনি তাঁর ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সজীব ইখতিয়ারের বড় ভাই শাকিল বখতিয়ার বলেন, পুলিশের কাছ থেকে দুটি নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নম্বর পুলিশের নয় বলে অপর পাশ থেকে জানানো হয়েছে। অন্য নম্বরটিতে ফোন দিয়ে ভাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর ভাই সেখানে নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাইকে কোথায় রাখা হয়েছে জানতে ঢাকায় কোথায় গিয়ে খোঁজ নেব, কীভাবে খোঁজ নেব সেটিও জানি না।’
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম, সজীবকে ঢাকার পুলিশের একটি দল নিয়ে গেছে। তবে তাঁর ব্যাপারে কী অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেটি জানেন না বলে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন