default-image

কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ। আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। শীতের হিমেল হাওয়ার মধ্যেই ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহনে করে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে নারী-পুরুষ-শিশুদের এনে জড়ো করা হচ্ছে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠে। এরা সবাই নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে চায়।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে সাড়ে নয় শতাধিক রোহিঙ্গা নিয়ে ১৮টি যানবাহন সারিবদ্ধভাবে ভাসানচরে যেতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ তারা চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। বিকেলের দিকে আরও কিছু বাসে করে হাজারখানেক রোহিঙ্গার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

‘চল চল ভাসানচর চল’ স্টিকারযুক্ত বিভিন্ন যানবাহনে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে। সেখান থেকে নৌপথে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আগামীকাল শনিবার সকালে জাহাজে করে তাঁদের পাঠানো হবে নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্রে।

নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রামে তৃতীয় দফার দ্বিতীয় দিনের (প্রথম অংশে) সাড়ে নয় শতাধিক রোহিঙ্গার রওনা হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুর-দ্দৌজা নয়ন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তৃতীয় দফায় ভাসানচরে পাঠানোর জন্য অন্তত ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে দেখা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে সকালে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে আসে কয়েক শ রোহিঙ্গা। মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক বড় বড় বাস। রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় জিনিস (মালামাল) নেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে ৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। রোহিঙ্গাদের বসার (বিশ্রাম) জন্য বিশাল একটি প্যান্ডেল তৈরির পাশাপাশি চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের ডেটা ও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশেই চলছে গরু জবাই করে রোহিঙ্গাদের খাবারের বিশাল আয়োজন। এলাকাজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুরুন্নাহার বেগম (৪৮) বলেন, তাঁদের শিবির থেকে ভাসানচরে যাওয়ার জন্য অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু উখিয়া কলেজ মাঠে এসেছে। শিবিরটি সরকার বন্ধ করে দিচ্ছে। ভাসানচরে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থার কথা শুনে সেখানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

default-image

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা (ইনচার্জ) পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, তাঁর শিবির থেকে স্বেচ্ছায় প্রায় অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার প্রথম দিনে ১ হাজার ৭৮৭ জন রোহিঙ্গা চারটি জাহাজে করে ভাসানচর উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করে। আজ শুক্রবার তাঁরা ১২টায় নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের ৪ ও ২৯ ডিসেম্বর দুই দফায় ৩ হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০১ পুরুষ, ৯৮৭ নারী এবং ১ হাজার ৬৫৮ শিশু রয়েছে। তারও আগে গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যায় সরকার।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। শিবিরগুলোতে চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন