default-image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে বড় ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের হারাদীঘি-লালগছ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এদিকে সকালেই নিহত ব্যক্তির বাড়ির পাশে একটি বালুর স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম রবিউল আলম (৪২)। তাঁর ছোট ভাইয়ের নাম ফিরোজ হোসেন (৩২)। তাঁরা ওই এলাকার সেরাফত আলীর ছেলে। আট ভাই ও এক বোনের মধ্যে রবিউল ষষ্ঠ এবং অভিযুক্ত ফিরোজ অষ্টম।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিউল আলম দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় শহরের ইসলামবাগ এলাকায় পৈতৃক ভিটায় বসবাস করতেন। গতকাল রাতে তিনি শহরের বাড়ি থেকে লালগছ এলাকায় গ্রামের বাড়িতে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি গ্রামের বাড়ির বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ছোট ফিরোজ হোসেন পেছন থেকে একটি ধারালো দা দিয়ে রবিউলের মাথা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় রবিউলের চিৎকারে তাঁর মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এলে ফিরোজ সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটি মাইক্রোবাসযোগে গুরুতর আহত রবিউলকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার রাতে রবিউল শহরের বাড়ি থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারান্দায় তাকে ভাত খেতে দিয়ে আমি ঘরে ওষুধ খেতে যাই। এরই মধ্যে আমার আরেক ছেলে ফিরোজ দা দিয়ে রবিউলকে কোপাতে থাকে। এ সময় আমরা সবাই ছুটে এলে ফিরোজ পালিয়ে যায়।
রমিনা বেগম, নিহত ও অভিযুক্তের মা
বিজ্ঞাপন

নিহত রবিউলের মা রমিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে রবিউল শহরের বাড়ি থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারান্দায় তাকে ভাত খেতে দিয়ে আমি ঘরে ওষুধ খেতে যাই। এরই মধ্যে আমার আরেক ছেলে ফিরোজ দা দিয়ে রবিউলকে কোপাতে থাকে। এ সময় আমরা সবাই ছুটে এলে ফিরোজ পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজ তাঁর বাক্‌প্রতিবন্ধী বাবার কাছে পঞ্চগড় শহরের জমির কিছু অংশ লিখে দিতে বলেছিলেন। এতে রবিউল বাধা দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই ফিরোজ এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রতিবেশী মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাতে ফিরোজদের বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে আমরা স্থানীয়রা সবাই ছুটে যাই। পরে সেখানে দেখি, রক্তাক্ত রবিউলকে তাঁর বড় ভাই নুর ইসলাম ধরে আছেন। পরে তাঁদের কাছে শুনি, তাঁদের ভাই ফিরোজ রবিউলকে দা দিয়ে কুপিয়ে পালিয়েছে। পরে আমরা তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফিরোজ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সবাই ধারণা করছে।’

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে। মামলা দায়ের করা হলেই পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজির আহমেদ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত)

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক কাওসার আহমেদ বলেন, দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁরা রক্তাক্ত রবিউলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পেয়েছেন। এ সময় তাঁর মাথা, বাঁ পাশের কানের নিচে, কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো কোনো কিছু দিয়ে কোপানোর আঘাত পেয়েছেন। তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেনজির আহমেদ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি (দা) উদ্ধার করা হয়েছে। তখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের জন্য আসেননি। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে। মামলা দায়ের করা হলেই পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন