বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরের ময়লাপোতা মোড়ের ফ্যালকন ট্রেডার্সের বিক্রয়কর্মী মৃত্যঞ্জয় মণ্ডল জানান, পুরো রমজানে দোকানে তেলের সরবরাহ নেই। তাঁরা সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন না।
শেরেবাংলা রোডের তানজিল গাজী স্টোরের মালিক আকরাম হোসেন বলেন, ঈদের আগে ২০ লিটারের মতো খোলা সয়াবিন তেল ১৯৬ টাকা লিটার দরে কিনেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই বাঁধা খরিদ্দারদের কাছে একটু–আধটু তেল বিক্রি করছেন। পরিবেশকেরা যোগাযোগ তো করছেনই না, ফোন দিলেও ধরছেন না।

বকশিপাড়া এলাকার পপুলার স্টোরের মালিক মনসুর আলী বলেন, ‘বোতলের তেল তো নেই। বেশি দামে অল্প করে খোলা তেল কিনছি। এখন তেল আছে তিন-চার লিটার। ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। মানুষ কিনতে এসে নানা প্রশ্ন করছেন। তেল বিক্রি করা এখন যেন পাপ কাজ।’

ইকবাল নগর এলাকার বাসিন্দা মো. আসলাম সয়াবিন তেল কিনতে আসেন ফারাজিপাড়া এলাকায়। বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাননি তিনি। শেষমেশ ওই এলাকার মালেক স্টোর থেকে খোলা সয়াবিন তেল কেনেন। তিনি বলেন, কোথাও বোতলজাত তেল নেই। আর খোলা তেলের দামও অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে আপাতত অল্প করে খোলা সয়াবিন কিনতে হচ্ছে।

মালেক স্টোরের মালিক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘রমজানের সময় যদি পাঁচ কার্টন তেল চেয়েছি, পেয়েছি এক কার্টন। সেই তেল পেতেও তেলের সঙ্গে কোম্পানির অন্যান্য পণ্য কেনা লেগেছে। এখন দোকানে বোতলজাত কোনো তেল নেই। ২০৬ টাকা করে খোলা তেলের লিটার কিনে ২১০ টাকা বিক্রি করছি। তা–ও অল্প পরিমাণে আছে।’

এদিকে নগরের বড়বাজার মোকামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানে সামনে সয়াবিন তেলের বোতল ঝোলানো আছে। তবে সব বোতল আগের। ১ লিটার বোতলের গায়ে ১৬০ টাকা, পাঁচ লিটার বোতলের গায়ে ৭৬০ টাকা মূল্য লেখা আছে। তবে বেশির ভাগ দোকানে আধা লিটার থেকে দুই লিটার পর্যন্ত বোতল ২০০ টাকা লিটার ধরে এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেখানকার ক্রেতাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, তেলের দাম বাড়বে, এমন আভাসে দোকানিরা অনেকেই ঈদের আগে তেল মজুত করে রাখেন। সেই তেল এখন বের করা হচ্ছে। আর নতুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

বড়বাজারের ওয়েস্ট মেকট রোডের দুলাল স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘তেল যে কয় লিটার নেবেন দিতে পারব সমস্যা নেই। তবে নতুন দামে নিতে হবে।’ গায়ে তো মূল্য কম লেখা আছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বডি রেট কী আছে তা আপনাদের দেখার দরকার নাই। সরকার যে দাম ঠিক করেছে ওই দামেই নিতে হবে।’

সেখানকার একজন ক্রেতা বিপ্লব বলেন, ‘দাম যা–ই হোক নিক, তাতে কিছু তো করার নেই। পাওয়া যাচ্ছে এই তো আমাদের কপাল।’

পাশের দোকান হাসেম স্টোরের বিক্রয়কর্মী মো. নূরু বলেন, এখনো তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন বড় দোকানদারদের কাছ থেকে কয়েক বোতল তেল সংগ্রহ করে রেখেছেন তাঁরা। তেল না দিলে ক্রেতারা অন্য মালামাল নিতে চান না।

ওই বাজারের তিনজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু দোকানির কাছে সয়াবিন তেলের মজুত আছে। নতুন তেল বাজারে সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা কম করে করে বের করছেন। সরবরাহ পুরো শুরু হলে আরও তেল বের হবে। আর এখন গায়ের মূল্য নিয়ে কথা বলার সুযোগও নেই।

বাজারের সাত্তার স্টোরে বেশ কয়েক বোতল সয়াবিন তেল ঝুলিয়ে রাখা ছিল। ওই দোকানের মালিক মো. সাত্তার বলেন, ‘তেল তো এখনো দিচ্ছে না। অন্য কোনো জায়গা থেকে আনা লাগছে। আশা করছি, দু–এক দিনের মধ্যে তেল সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম বলেন, শিগগিরই তেলের সরবারহ ঠিক হয়ে যাবে। কোনো ব্যবসায়ী তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন