default-image

মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী, সাগর-রুনি, তনুসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিহত ত্বকীর বাবা সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি।
আজ রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার ৯২ মাস উপলক্ষে বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকরের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, ন্যাপ জেলা সম্পাদক আওলাদ হোসেন, সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, উদীচী জেলা সভাপতি জাহিদুল হক, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকী হত্যা পর সাংস্কৃতিক জোট, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন দেশে ও দেশের বাইরে থেকে বিচার চেয়ে আসছে। যাঁরা বিচার চেয়েছেন, তাঁদের অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু বিচার হচ্ছে না। হত্যাকারী কারা, তদন্ত সংস্থার তদন্তে তা উঠে এসেছে, সেটি দেশের মানুষ সবাই জানে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোকে ধ্বংস করেছে ও দুর্বৃত্তদের সঙ্গে আঁতাত করেছে। ঘটনাগুলো প্রমাণ করে সরকার মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য যাকে যাকে প্রয়োজন, তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যস্ত রয়েছে। সরকার মনে করছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বললে জনগণ তাদের কাছে আসছে না। তাই তারা বিচারব্যবস্থা, ন্যায় শাসন ভূলুণ্ঠিত করছে।

বিজ্ঞাপন

রফিউর রাব্বি আরও বলেন, এই ওসমান পরিবারকে সরকারের এত প্রয়োজন যে তারা (ওসমান পরিবার) ঘাতক, হত্যাকারী, ছিনতাইকারী যা-ই হোক, তাদের রক্ষা করতে হবে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এটি সরকারের জন্য প্রয়োজন হলেও জনগণ এটিকে অত্যন্ত খারাপভাবে গ্রহণ করেছে। এই যে বিচার আটকে দেওয়ার পদ্ধতি, এর বিরুদ্ধে জনগণ অবস্থান নিয়েছে। তাই অবিলম্বে ত্বকী হত্যার সঙ্গে সঙ্গে সাগর-রুনি-তনুসহ নারায়ণগঞ্জের সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, ত্বকীর ঘাতকেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যত দিন ত্বকী হত্যার বিচার না হবে, তত দিন আন্দোলন চলবে। ত্বকী হত্যার বিচার একদিন হবে। যারা বিচার আটকে রেখেছে, তাদেরও বিচার হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজের দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শাখাখাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0