default-image

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৯৭ মাস উপলক্ষে ত্বকী, শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবে মারা যাওয়া ৩৪ যাত্রী ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বানে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক সাংস্কৃতিক, রাজনীতি ও সমাজকর্মী অংশ নেন।

কর্মসূচি উপলক্ষে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন হলে একটি হত্যার বিচারের অভিযোগ তৈরি হয়েও তা আট বছর আটকে থাকে না। তবে ৩৪ জনের মৃত্যুর পাঁচ দিন পার হলেও শীতলক্ষ্যায় লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া কার্গোটিকে প্রশাসন চাপের মুখে চার দিন পর আটক করেছে। এ কার্গো জাহাজের মালিককে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ত্বকীর ঘাতকেরা যেহেতু সরকারদলীয়, সেহেতু ত্বকী হত্যার বিচার যেমনি বন্ধ করে রাখা হয়েছে, তেমনি ঘাতক কার্গোটিও যেহেতু সরকারের একান্ত আপনজনের, সেহেতু কার্গোটির মালিককেও এখন আর বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। এ গণবিরোধী বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ফিরে পেতে চাই। যেখানে সবার বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে, কথা বলার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, ‘ত্বকী হত্যার পর থেকে ঘাতকদের বিচারের দাবিতে টানা প্রতি মাসের ৮ তারিখে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সরকারের বৈষম্যমূলক বিচারব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ আট বছরেও এ হত্যার বিচার হয়নি। আজকে আমরা ত্বকী হত্যার ৯৭ মাস উপলক্ষে ত্বকী, শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে মৃত্যু ৩৪ জনসহ সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করছি।’

বিজ্ঞাপন

এ কর্মসূচিতে অংশ নেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, প্রদীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, উদীচী জেলা সভাপতি জাহিদুল হকসহ প্রায় দুই শ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা–কর্মী।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন