রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকী হত্যার সাড়ে ৯ বছর অতিবাহিত হলেও সরকারের অঘোষিত ইনডেমনিটির মাধ্যমে বিচারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। র‍্যাবের তৈরি করা অভিযোগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে যাঁদের অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে, সরকার ও প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। ঘাতকেরা এখন বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ত্বকী হত্যা দেশে বিচারহীনতার একটি নগ্ন উদাহরণ।

রফিউর রাব্বি আরও বলেন, সরকার প্রতিনিয়ত মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে, সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করে চলেছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে কখনো মানুষ এত বিপন্নবোধ করেনি। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে তিনি জানেন, তবুও বিচার হচ্ছে না। সাড়ে আট বছর আগে ত্বকী হত্যার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র তৈরি হলেও তা আদালতে পেশ করা হয়নি। তিনি সাগর-রুনি, তনুসহ নারায়ণগঞ্জে নিহত আসিক, চঞ্চল, বুলু ও মিঠু হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে হালিম আজাদ বলেন, ত্বকীর ঘাতক ওসমান পরিবার চিহ্নিত হলেও তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ত্বকী। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এরপর থেকে ত্বকী হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন