default-image

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে দিনাজপুরের নিচু এলাকা। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও ধরলা নদী ও রত্নাই নদের পানি বেড়েছে। রংপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। নীলফামারীতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে।

কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে মৃত ৪

কুড়িগ্রামে গতকাল বিকেল চারটার দিকে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১২, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০৮ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়কের ওপর দিয়ে চারটি স্থানে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুদিন ধরে যাত্রাপুর হাটের সঙ্গেও সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে চার শিশু মারা গেছে।

 সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই চার শিশুর মধ্যে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ (৬) নামের একজন রয়েছে। ফুলবাড়ীতে একজন ও চিলমারীতে দুজন শিশু ডুবে মারা গেছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

default-image

তিনটি বাঁধ ভেঙেছে, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে পানি

গাইবান্ধায় গতকাল নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সকালে ঘাঘট নদীর পানির চাপে সদর উপজেলার ফারাজিপাড়া এলাকায় বাঁধের ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে খোলাহাটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফারাজিপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কিছু অংশ ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই দিন ভোরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির চাপে ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর কাতলামারি এলাকায় বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। এতে উত্তর কাতলামারিসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোখসানা বেগম বলেন, সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।

default-image

রংপুরে অপ্রতুল ত্রাণ

রংপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ জেলার তিন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১১০ মেট্রিক টন চাল ও তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুকনো খাবারও রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সাহায্য অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বানভাসি মানুষ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, ইতিমধ্যে ১১০ মেট্রিক টন চাল ও তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরেও ঢুকেছে পানি

দিনাজপুরের নদ-নদীতে পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা প্রধান তিনটি নদ–নদী পুনর্ভবা, আত্রাই ও ইছামতীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আজকের মধ্যেই তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে পাউবো। জেলা প্রশাসন খুলেছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। দিনাজপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফইজুর রহমান বলেন, শহর রক্ষা বাঁধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজরদারি রাখা হয়েছে।

default-image

লালমনিরহাটে নতুন এলাকা প্লাবিত

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও ধরলা নদী ও রত্নাই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সদর উপজেলার
মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ হয়েছে ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহসান হাবিব বলেন, ২৪৫ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

নীলফামারীতে পরিস্থিতির উন্নতি

গতকাল লালমনিরহাটের দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে নামলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। বেলা তিনটায় পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল।

ছোট খাতা গ্রামের জামিলা বেগম বলেন, ‘সরকারি চাউল-ডাইল কিছুই পাইনো না।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এ হায়াত বলেন, ‘তালিকা থেকে কেউ বাদ পড়লে যোগাযোগ করে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন