বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী মো. কামরুজ্জামান। আদালত ওই বছরের ২৫ জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন। এরপর ২৮ আগস্ট নারাজি খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী।

একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে আবার নারাজি আবেদন খারিজ করেন। এরপর উচ্চ আদালতে যান বাদী। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন করেন বাদী। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

এ ঘটনায় জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামিরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শুনানির অপেক্ষায় থাকার পর আদালত ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আসামিদের করা রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহণ করতে এবং বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৯ সালের ২৫ জুন দুপুরে নরসিংদী জজ আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রকিবুল ইসলাম শুধু বাদী কামরুজ্জামানের জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত শেষ করে দেন। পরে বাদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারির কারণে আদালতের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা চলে আসে। বর্তমানে তা শুনানির অপেক্ষায় আছে। সম্প্রতি অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আবদুল মতিন সরকার মারা গেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আসাদ আলী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের এক আদেশে আসামিদের করা রিট পিটিশন নিষ্পত্তি করে বাদীর দায়ের করা নারাজি আবেদন গ্রহণ করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালত শুধু বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে মামলার পুনঃ তদন্ত শেষ করে দেন। তাই আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেছি। বর্তমানে তা শুনানির অপেক্ষায় আছে।’

মামলার বাদী ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি সঠিক ছিল না। সেখানে অভিযুক্ত ১৪ আসামির মধ্যে ১১ আসামিকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। যত দিন পর্যন্ত প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় না আনা হবে, তত দিন আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যকার মতবিরোধের সুযোগ নিয়ে লোকমান হত্যার আসামিরা স্থানীয় সাংসদের কাঁধে ভর করে আছে। এতে বিচার কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

নিহত লোকমান হোসেনের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের সাংসদ তামান্না নুসরাত বলেন, ‘আধুনিক নরসিংদীর রূপকার ছিলেন পৌর মেয়র লোকমান হোসেন। এত জনপ্রিয়তাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছিল। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া ১০ বছর থমকে থাকার কষ্ট আমিসহ পুরো নরসিংদীবাসীর। তাই সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশা আমরা ছাড়ছি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন